
শেষ আপডেট: 4 May 2023 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেট এয়ারওয়েজের পর এবার 'গো ফার্স্ট'! আবার দেশের বিমান পরিবহণের আকাশে ঘনিয়ে এসেছে 'টার্বুলেন্স'।
বছরখানেক আগেও তারা ছিল দেশের পঞ্চম বৃহত্তম বিমানসংস্থা। সস্তায়, পকেট বাঁচিয়ে ওড়াউড়ির জন্য সর্বস্তরের যাত্রীদের পছন্দের তালিকাতেও তারা ছিল বেশ ওপরে। এবার সেই উড়ানসংস্থা 'গো ফার্স্ট' (Go First) সরাসরি জানিয়ে দিল, তারা তীব্র আর্থিক সংকটের জন্য 'জাতীয় কোম্পানি আইন আদালত' বা 'ন্যাশনাল কোম্পানি ল' ট্রাইবুনালে' (এন-ক্ল্যাট) NCLT দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করতে চলছে। আগামী ৯ মে অবধি তাদের সমস্ত উড়ান বাতিল হতে চলেছে। যাত্রীদের ভাড়ার টাকা যথাযথ নিয়ম মেনেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
'গো ফার্স্ট' উড়ানসংস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। প্রতিষ্ঠাতা, বিখ্যাত 'ওয়াদিয়া' গ্রুপের কর্ণধার নুসলি ওয়াদিয়ার পুত্র, 'বম্বে ডাইয়িং' ব্র্যান্ডের শীর্ষকর্তা জেহ ওয়াদিয়া (Jeh Wadia)। তখন নাম ছিল "গো এয়ার"। কম বাজেটে দেশের নানা প্রান্তে উড়ান পৌঁছে দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই তাদের খ্যাতি ছিল উর্দ্ধগামী। পরে ইন্ডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা, এয়ার এশিয়ার মত কমদামি উড়ানের সঙ্গে টক্কর দিয়েও দিব্যি নিজেদের বাজার ধরে রেখেছিল গো এয়ার। কিন্তু বাদ সাধে তাদের বিমানগুলোর ইঞ্জিন।
'গো ফার্স্ট'-সহ দেশের বেশিরভাগ কমদামি উড়ানসংস্থাই এয়ারবাসের এ-৩২০ মডেলের বিমান ব্যবহার করে। ফরাসি, জার্মান ও স্পেনীয়-সহ ইউরোপের একাধিক দেশের সমবেত উদ্যোগে বানানো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান নির্মাতা 'এয়ারবাস'-এর এই মডেলের ইঞ্জিন সরবরাহ করে মার্কিন সংস্থা প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি (Pratt & Whitney)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির ইঞ্জিনের প্রায় ২৫-টি বিমানকে বসিয়ে দিতে হয়েছে, যা 'গো ফার্স্টের' মোট বিমান সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। ২০২০ সাল থেকেই এইভাবে একের পর এক বিমান বসে গিয়েছে, এদিকে তত্ত্বাবধান ও ত্রুটি সারানোর বিভিন্ন কনট্র্যাক্টের জাঁতাকলে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির তরফেও বিকল্প ইঞ্জিন পাঠানো হচ্ছে না। যার ফলে গো এয়ারের ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়েছে ১০,৮০০ কোটি টাকা।
প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির তরফে যেটুকু যা সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে, তার সারমর্ম— 'গো ফার্স্ট' সংস্থার তরফে নাকি বারেবারেই তাদের বকেয়া না মেটানোর নজির রয়েছে। যে সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ আর্থিক বকেয়া মেটানোর কথা, 'গো ফার্স্ট' সেটা করেনি।
আপাতত পাহাড়প্রমাণ দেনার বোঝা সংস্থার মাথায়। এন-ক্ল্যাটে 'গো ফার্স্ট' জানিয়েছে, ঋণদাতাদের কাছে এই মুহূর্তে তাদের ৬৫২১ কোটি টাকা বকেয়া আছে। যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের মত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক। যেখানে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদার যৌথ প্রদেয়র পরিমাণই প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা।
ইতিমধ্যেই বিমানভাড়া হু হু করে বেড়েছে। এখন 'গো ফার্স্ট' উড়ান তুলে নিলে জোগান কমায় চাহিদা আরও তীব্রতর হবে বলেই আশঙ্কা করছে বাণিজ্যমহল। যার ফলে সম্ভবত আবার সেই পকেট পুড়তে চলেছে আমজনতারই।
অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদ করা যাবে না, নিম্ন আদালতের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের