.jpg)
শেষ আপডেট: 20 October 2023 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমিকা তথা স্ত্রী নাবালিকা। তার সঙ্গে সম্মতিক্রমেই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল তরুণ। তার জানা ছিল না, ১৮ বছরের কম বয়সি কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতির তোয়াক্কা করে না আইন। তাই জানাজানি হওয়ার পর পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছিল। দায়রা আদালত তাকে ২০ বছরের হাজতবাসের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ওই তরুণ। সেই মামলার শুনানিতে আদালত জানাল, বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, বিপরীত লিঙ্গের মন ও শরীর দুইয়ের প্রতিই সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।
এই মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাস এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালতে 'নিগৃহীতা' কিশোরী জানিয়েছিল, তার সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণের সম্পর্ক ছিল এবং স্বেচ্ছায় তারা পরস্পরকে বিয়ে করেছিল। তারপর সম্মতিক্রমেই তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, অল্প বয়সে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পরিণাম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য এবং সেসবের আইনি জটিলতার বিষয়েও জানার জন্য প্রতিটি স্কুলে যৌন শিক্ষার পাঠ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, বয়ঃসন্ধির কিশোর কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নারী পুরুষ নির্বিশেষে যৌন চাহিদা বিষয়টি নির্ভর করছে তাদের নিজেদের উপর। আদালত কিশোরীদের প্রতি আর্জি জানিয়েছে তারা যাতে নিজেদের যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে, ২ মিনিটের সুখের জন্য যেন নিয়ন্ত্রণ না হারায় তারা।
'নিজের যৌন চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করো। কারণ তা না হলে যখন ওই দু মিনিটের আনন্দের কাছে নিজেকে সঁপে দেবে, তখন সমাজের কাছে তোমরাই হেরে যাবে,' জানিয়েছে আদালত।
বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, শরীরের প্রতি অধিকার, সম্ভ্রম এবং নিজের মূল্য অনুধাবন করে তা রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে কিশোরী-তরুণীদের নিজেদেরই। ছেলেদের কর্তব্যও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, একজন মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করা এবং মেয়েদের সম্মান করা, তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করার বিষয়ে নিজেদের প্রশিক্ষিত করার দায় ছেলেদের।