
শেষ আপডেট: 7 December 2023 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাচ নিয়ে বুধবার কুমন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তিনি বলেছিলেন, গোটা বাংলা যখন দুর্নীতিতে আক্রান্ত, তখন মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে 'ঠুমকা' নাচছেন। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই কুমন্তব্যের জেরে বৃহস্পতিবার লোকসভার পাশাপাশি উত্তাল হয়ে উঠল বিধানসভা কক্ষও।
কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে, এই দাবিতে এদিন কলকাতা শহরেও অভিনব প্রতিবাদ মিছিল করল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজরাতে নাচের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা সহ তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। প্রত্যেকের কপালে ছিল কালো কালিতে ধিক্কার লেখা ছোট পোস্টার। গানের সুরে সুরে নেচে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান চন্দ্রিমা, শশীরা।
গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন উৎসবে যেভাবে গানের সুরের সঙ্গে ধীর তালে নাচ হয়, অনেকটা সেই স্টাইলে এদিন হাজরায় নাচের মাধ্যমেই গিরিরাজের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা প্রতিনিধিরা। ব্যস্ততম দিনে রাস্তায় শাসকদলের মহিলা মন্ত্রীদের এমন অভিনব বিক্ষোভকে ঘিরে ভিড় বাড়তে শুরু করে কৌতূহলী মানুষজনের।
চন্দ্রিমা বলেন, “একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা একজন নারীর প্রতি উনি যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, এই অপসংস্কৃতি দেশের সঙ্গে খাপ খায় না। তারই প্রতিবাদে এই অভিনব বিক্ষোভ। দেখি মন্ত্রীর ঘুম ভাঙে কি না, ক্ষমা চান কি না। না হলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ করব।”
অর্থাৎ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ক্ষমা না চাইলে, তৃণমূল প্রতিবাদ আন্দোলন যে আরও তীব্রতর করবে, এদিন সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন চন্দ্রিমা।
শশী পাঁজা বলেন, “নারীরা নরম মনের, তাই সকলে নারীদের আক্রমণ করতে চায়। কিন্তু সময় বদলেছে। বাংলা এই অপ সংস্কৃতি বরদাস্ত করবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিজের কুমন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”
এদিন এই দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভাও। শাসকদলের তরফে মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর ঠুমকা মন্তব্যের প্রতিবাদে বিধানসভায় ধিক্কার জানান। পাল্টা হিসেবে বিজেপি বিধায়করা দাবি করেন, মন্ত্রাী এমন কোনও কথা বলেননি। এ প্রসঙ্গে বিরোদী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “গিরিরাজ সিং ব্যক্তি আক্রমণ করেননি। তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।”
'ঠুমকা' নিয়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়ে যায় বুধবার থেকেই। সেই চাপের মুখে পড়ে ডিগবাজি খান কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। বুধবার গিরিরাজ বলেন, “ঠুমকা আমি বলিইনি। আমার টুইটার দেখুন। অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে।” গিরিরাজের দাবি, তিনি বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জশন’ করছেন (পড়ুন আনন্দ-উৎসব করছেন)। “জশন মানে ঠুমকা নাকি?”
তবে গিরিরাজ যে ‘ঠুমকা’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা রেকর্ডেই রয়েছে। এদিন গিরিরাজ বলেন, “আমি এটাই বলেছি, বাংলা দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে, গরিবের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে আর মমতা দিদি জশন মানাচ্ছেন। ওখানকার তৃণমূলের লোকজন আমার এ কথাই বিকৃত করে বাড়িয়ে চড়িয়ে বলছে।”
তবে তিনি যাই বলুন না কেন, তাতে বিতর্ক ধামাচাপা পড়া তো দূর, উল্টে আরও বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সম্পর্কে এ ধরণের নারীবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে রাজনীতির বাইরের লোকজনও সমালোচনা করেছেন।