৮০০ সন্তানের জন্ম দিয়ে আস্ত প্রজাতি রক্ষা করল দিয়েগো! বৃদ্ধ পিতাকে কুর্নিশ বিজ্ঞানীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কয়েক দশক তাদের আয়ু বেঁধে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাদের জীবনযাত্রার গতিপ্রকৃতি সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিল। জানা গেছিল, বিলুপ্ত হতে বসেছে বড় কচ্ছপের প্রজাতি ‘কেলোনয়েডিস হুডেনসিস’। কিন্তু প্রকৃতি হার মেনে গেল, এই প্রজাতিরই এক স
শেষ আপডেট: 12 January 2020 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কয়েক দশক তাদের আয়ু বেঁধে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তাদের জীবনযাত্রার গতিপ্রকৃতি সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিল। জানা গেছিল, বিলুপ্ত হতে বসেছে বড় কচ্ছপের প্রজাতি ‘কেলোনয়েডিস হুডেনসিস’। কিন্তু প্রকৃতি হার মেনে গেল, এই প্রজাতিরই এক সদস্যের কাছে। রীতিমতো দায়িত্ব নিয়ে গোটা প্রজাতিকে রক্ষা করল কেলোনয়েডিস হুডেনসিস নামের জায়ান্ট প্রজাতির টরটয়েজ দিয়েগো।
আজ থেকে ছয় দশক আগে থেকেই এই প্রজাতির সদস্যদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পেতে শুরু করেছিল। চিন্তিত হয়ে উঠেছিলেন পরিবেশবিদ ও জীববিজ্ঞানীরা। বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় ঢুকে যায় তারা। শেষমেশ আমেরিকার নিউ মেক্সিকোর এসপ্যানোলাতে মাত্র ২টি পুরুষ ও ১২টি স্ত্রী কেলোনয়েডিস হুডেনসিস কচ্ছপ বেঁচে ছিল। তাদের বংশ বাড়ানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। কারণ একমাত্র তাহলেই প্রজাতি রক্ষা পাবে। এই উদ্দেশে চেষ্টা করা হয়, যাতে স্ত্রী ও পুরুষ কচ্ছপগুলি নিজেদের মধ্যে সঙ্গম করে সন্তান উৎপাদন করে। কিন্তু কিছুতেই সফল হচ্ছিল না চেষ্টা।
এমন সময়ে ক্যালিফর্নিয়ার সান দিয়েগো চিড়িয়াখানা থেকে দিয়েগো নামের একটি পুরুষ কচ্ছপকে নিয়ে যাওয়া হয় ল্যাটিন আমেরিকার গ্যালাপাগোস দ্বীপে। সেখানকার ন্যাশনাল পার্কে এসপ্যানোলা থেকে আনা হয় ১২টি স্ত্রী কেলোনয়েডিসকে। সঙ্গিনীদের পেয়ে বেজায় খুশি হয় দিয়েগো! ফলে প্রজননের চেষ্টা সহজেই সফল হয়। কারণ সঙ্গমে কোনও অনীহা নেই তার। সঙ্গিনীদের সঙ্গে সময় কাটাতে খুবই পারদর্শী সে।

এই তীব্র যৌনতাই বাঁতিয়ে দিল গোটা প্রজাতিকে। সেই ছয়ের দশক থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় হাজার দুয়েক কেলোনয়েডিস হুডেনসিস কচ্ছপের জন্ম হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০০টিরই বাবা হল দিয়েগো। বিপন্ন প্রজাতি থেকে আবারও স্বাভাবিক প্রাণী প্রজাতির আওতায় ফিরে এসেছে কেলোনয়েডিস। যার পুরো কৃতিত্বই বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন দিয়েগোকে।

দিয়েগো অবশ্য এবার ফিরে যাবে এসপ্যানোলা দ্বীপে। তার কাজ ফুরিয়েছে এবার। সঙ্গমে আর আগের মতো উৎসাহী নয় সে। বয়সও হয়েছে ১০০ বছরের ওপর। তাই শেষ বয়সে বিশ্রাম নিতেই তাকে দ্বীপান্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।