
শেষ আপডেট: 22 July 2022 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরুঅনন্তপুরমের (Kerala) একটি সাধারণ প্রতীক্ষালয়ের স্টিলের বেঞ্চ কেটে কেটে বসার জায়গা আলাদা করে দিয়েছিল একটি সামাজিক সংস্থা। ছেলে মেয়েদের (Gender Equality) পাশাপাশি বসে গল্পও করতে না দেওয়ার জন্য নীতি পুলিশের ভূমিকা নিয়েছিল তারা। সেই ঘটনায় বিরক্ত হয়ে একটা ছবির মাধ্যমে জবাব দিল (Protest) কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছেলে মেয়েরা।
স্টিলের বেঞ্চগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছিল যাতে একজন বসার পর তিনজনের জায়গা ছেড়ে আর একজন বসতে পারে। কিন্তু কিছু ছেলে-মেয়ে এক-একটা বেঞ্চে একে অপরের কোলে বসে ছবি তোলে। ছবিটা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়ার পরেই ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সেই ছবি ঘুরতে থাকে ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে।
মেয়র আর্য নারায়ণ সেই প্রতিক্ষালয় নিজে গিয়ে পরিদর্শন করেন এবং একটি লিঙ্গ-বিভেদহীন সাধারণ প্রতীক্ষালয় গড়ে তলার আশ্বাস দেন। মেয়র বলেছেন, ‘ছেলে মেয়েদের একসঙ্গে বসা থেকে আটকানোর কোনও অধিকার নেয়। যাঁরা এটা বুঝতে পারছেন না এবং এই ধরনের ভাবনা এখনও পোষণ করছেন তাঁরা সমাজকে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে’।
তবে এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছেলে-মেয়েদের পরিবারের মোটেই পছন্দ হয়নি ব্যাপারটা। ছেলে-মেয়েদের এই রকম ছবি ভাইরাল হওয়াটা ভাল লাগেনি তাঁদের।
ডিওয়াইএফআই এই ঘটনায় সুর চড়িয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা উত্তরপ্রদেশে দেখতে পাওয়া যায়। এখন এগুলো কেরালাতেও শুরু হয়েছে।
সমাজে ছেলে আর মেয়েদের আলাদা করে রাখার এই যে একটা চেষ্টা, এ কিন্তু ভারতে নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এই বিভাজনের নিয়মে নীতি পুলিশি চলেই আসছে। তবে ইদানীং সমাজের এই 'জ্যাঠামি' বেড়েই চলেছে। তাই ঘটনাগুলিকে কখনওই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায়না। বরং অনেক বেশি প্রভাবিত বলা যেতে পারে। তাই ছাত্রছাত্রীদের এই প্রতিবাদ অভিনব হলেও যে তা সমাজে বিরাট কিছু পরিবর্তন আনতে পারবে তেমন আশা করা যায়না।
রাত্রিবেলা দুটো অল্প বয়সী ছেলেমেয়েকে একসঙ্গে দেখতে পেলে পুলিশ ধরে জেরা করে, রাস্তায় একটা মেয়ে তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে হেঁটে গেলে পাড়ার লোকে বাঁকা চোখে তাকায়, অনেক পরিবারের লোকজনকেও ছেলেমেয়েরা বোঝাতে পারেনা লিঙ্গসমতা কী জিনিস। এই সমস্যাগুলো আমাদের সমাজে চিরকালীন।
ছবিতে থাকা একজন ছাত্রী জানিয়েছেন, ‘আমরা জানি লিঙ্গসমতা জরুরি। তার জন্য আমাদের সবসময় লড়াই জারি রাখতে হবে। কিন্তু আপাতত আমরা ভয়ে আছি। এই ছবিটা ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন সমস্যার ভিতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুব অপমানজনক’।
অবিবাহিত অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভপাতের অনুমতি, নজিরবিহীন রায় শীর্ষ আদালতের