
শেষ আপডেট: 8 April 2022 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল না কারখানা? হয়তো এই প্রশ্নটাই উস্কে দিচ্ছে মানুষের মনে। গেটের বাইরে নোটিস টাঙিয়ে বলে দেওয়া হচ্ছে 'আজ থেকে স্কুল বন্ধ…'। কবে খুলবে? প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছেই। জিডি বিড়লা স্কুলের (GD Birla School) কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জানাচ্ছেন, এই নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার স্কুলের গেটের বাইরে গিয়ে দেখা যায় টাঙানো একটা নোটিস। লেখা, স্কুলের ভিতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেই কারণে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আপাতত স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে পড়ুয়ারা। সকালে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলে এসে দেখল তাদের গেট বন্ধ। ফের 'গৃহবন্দি' হয়ে পড়ল তারা।
এই নিয়ে অভিভাবকদের (guardian) মধ্যে দেখা দিয়েছে একরাশ ক্ষোভ। তাঁরা চিন্তিত বাচ্চাদের ভবিষ্যত নিয়ে, চিন্তিত স্কুলের এমন হঠকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও।
কারও মতে, স্কুল তো কারখানা নয় যে হঠাৎ এভাবে নোটিস টাঙিয়ে বন্ধ করে দেওয়া যায়! কেউ বলছেন, স্কুলের এই সিদ্ধান্তে আসার আগে বাচ্চাদের কথা ভাবা উচিত ছিল। কেউ কেউ বললেন অনলাইনের যুগে অভিভাবকদের কি আগে থেকে জানানো যেত না?
জিডি বিড়লা স্কুলের এক ছাত্রীর অভিভাবক অম্বালিকা রায় বলেন, 'করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকার একটা কারণ ছিল ঠিকই। কিন্তু এখন যেখানে সব স্বাভাবিক হচ্ছে তখন এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল। সকালে স্কুলের বাস এল না আমরা নিয়ে গেলাম স্কুলে গিয়ে দেখি নোটিস টাঙানো স্কুল বন্ধ। এতে বাচ্চার মনে যে ধাক্কা লাগল সেটা ভাবা উচিত স্কুলের।'
ওই স্কুলেরই আর এক অভিভাবক তোর্সা সেনগুপ্ত বলেন, 'স্কুলের নামের সঙ্গেই এডুকেশন শব্দটা জোড়া আছে। কিন্তু এখানে এই শব্দটার সঠিক ব্যহার হচ্ছে না। স্কুল মানেই বাচ্চারা শেখে সমস্যা কীভাবে দূর করা যায়। কিন্তু এখানে সমস্যা তৈরি হওয়াই শিখছে বাচ্চারা। এইভাবে বাচ্চা ও অভিভাবকরা বেশি নাজেহালের শিকার হতে হচ্ছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'অনেকেই এমন আছেন যাঁরা স্কুলের পুরো বেতন দিয়ে দিয়েছে। তাঁদের কেন এই অবস্থার মধ্যে পড়তে হল? স্কুল কেন আগে থেকে জানাল না?'
তোর্সা সেনগুপ্তর মতই আরেক অভিভাবক ঋতম ঘোষাল প্রশ্ন তোলেন, 'পয়সা খরচ করেও কি আমরা আমাদের বাচ্চাদের সঠিকভাবে পড়াতে পারব না? সবকিছুতেই কেন আদালতে যেতে হবে? আদালতের জন্য অনেক বড় সমস্যা আছে, এই সমস্যা স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত। সবার আগে বাচ্চাদের কথা চিন্তা করা উচিত।'
জিডি বিড়লা স্কুলের আরেক অভিভাবক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, 'বাচ্চারা শুধু স্কুলে পড়াশুনা করতে যায় না। সেখানে বন্ধু বান্ধব বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু স্কুলের এই সিদ্ধান্তে এতদিন পর স্কুল খোলার পরেও এই দিকটা আবার বন্ধ হয়ে গেল।' তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ' অভিভাবকদের মতামত না নিয়ে কী করে এমন সিদ্ধান্ত নিল স্কুল কর্তৃপক্ষ?'
শুধু জিডি বিড়লা নয়, বন্ধ হয়েছে এই গ্রুপেরই অশোক হল। সেই স্কুলের এক অভিভাবকও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) প্রশ্ন তুললেন, ' যেখানে এখনও আমরা অনলাইনে অভ্যস্থ সেখানে স্কুল কী আগে থেকে একবারও জানা পারল না যে স্কুল বন্ধ থাকবে?' পাশাপাশি তিনি এও বলেন, 'অভিভাবক হিসেবে বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।'
এই পরিস্থতি যাতে দ্রুত সুরাহা হয় সেইদিকে তাকিয়ে আছেন অভিভাবকরা। কিন্তু স্কুল কী ভাবছে? জিডি বিড়লা স্কুলের মুখপাত্র সুভাষ মহান্তি জানান, 'এখনও এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'
স্কুলের বেশ নামডাক হয়েছে। স্কুলের পঠনপাঠন ভাল বলেই অনেক অভিভাবক ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীর মত। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে একাধিক ঘটনায় বার বার খবরে উঠে এসেছে জিডি বিড়লার নাম। আর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সরকারি তৎপরতা সত্ত্বেও কমল না ফলের দাম, রমজান মাসে মাথায় হাত ক্রেতাদের