
শেষ আপডেট: 26 October 2023 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। বাইরে থেকে হইচইয়ের শব্দ ভেসে আসে। প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় সামাউল শেখের। দরজা খুলে বাইরে বেরতেই দেখেন গঙ্গা একেবারে দুয়ারের সামনে চলে এসেছে। স্ত্রী সন্তান ও নিজের প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সামাউল। চোখের পলকে নদীতে তলিয়ে যায় সামাউলের গোটা বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভোরে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়েই ঘুম ভাঙল সামশেরগঞ্জের উত্তর চাঁচন্ড গ্রামের বাসিন্দাদের।
গঙ্গায় জলস্তর কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে চাঁচন্ড গ্রামে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০টি পরিবার মাথার ছাদ খুইয়েছেন। নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বিঘের পর বিঘে চাষের জমিও। নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে চাঁচন্ড গ্রাম।
স্থানীয় সামাউল শেখ বলেন, 'গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দা তাঁর মতোই পরিযায়ী শ্রমিক। কয়েকদিন আগে উপার্জনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। বাক্স সমেত সেই টাকাও গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। তাই নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের তলায় পরিবার নিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে।'
গ্রামের আর এক বাসিন্দা মহম্মদ হাসানের অভিযোগ, অনেক দিন ধরে চাঁচন্ড গ্রামে ভাঙন কবলিত এলাকা বলে পরিচিত। গ্রাম বাঁচাতে বহুবার প্রশাসনের কাছে পাথর দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি জানিয়েছি। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে বালির বস্তা ফেলে কোনওমতে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করে প্রশাসন।
হাসান আরও জানান, এই গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরেই রয়েছে স্কুল, কলেজ। এই মুহূর্তে ব্যবস্থা না নিলে, গ্রামের সঙ্গে সেগুলিও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
আপাতত সারাদিন ধরে গঙ্গায় পড়ে থাকা শেষ সম্বল কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। ভাঙ্গন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকশ পরিবার।
গঙ্গা ভাঙনের খবর পেয়ে সামসেরগঞ্জের উত্তর চাঁচন্ড গ্রামে ছুটে আসেন সামসেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবারের বন্দোবস্ত করেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর থাকার জন্য বাসুদেবপুর হাইস্কুলে ব্যবস্থা করেছেন।