দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোমূত্রে নাকি সারবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ! পেঁয়াজ-রসুনেও কাজ হবে অব্যর্থ। আবার রোগ পুরোপুরি সারাতে হলে জপ করতে হবে তারামন্ত্র। না না, কোনও অভিজ্ঞ ডাক্তারের নিদান নয়, এমন খবরই রটছে আতঙ্কের বাজারে।
গোমূত্রে ক্যানসার সারে, এমন কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী সাধ্বী প্রজ্ঞা। গরুকে আদর করলে নাকি রক্তচাপ বশে থাকে, স্বাধ্বী-বচনে কৌতুকের ঝড় বয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার করোনাভাইরাস নিরাময়ের প্রসঙ্গে গোমূত্রকে টেনে এনে ফের নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে শুধু গোমূত্র নয়, ভাইরাসের শাঁড়াশি আক্রমণ কমাতে আরও নানা নিদানের কথাও ফলাও করে রটছে নেট দুনিয়ায়। যার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ-রসুন, মধুর মতো টোটকাও। আবার জপ-তপ করলেও নাকি রোগ সারে, এমন খবরও রটেছে বাজারে।
নোভেল করোনাভাইরাসের হানায় চিনে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০০। আক্রান্ত কুড়ি হাজারেও বেশি। চিন-ফেরত ভারতীয় নাগরিকদের কেউ কেউ আবার সংক্রমণ নিয়েই দেশে ফিরেছেন। কেরলে ইতিমধ্যেই তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। ওই তিনজনই সম্প্রতি চিন থেকে ফিরেছেন। দেশের কুড়িটিরও বেশি বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং চলছে। ৩০-৪০ হাজার যাত্রীকে স্ক্রিনিং করানো হয়েছে। বিহার, রাজস্থান, মুম্বইয়ের হাসপাতালে সংক্রমণের আশঙ্কায় ভর্তি ডজনখানেক রোগী। পর্যবেক্ষণে কয়েক হাজার।
কাজেই করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছে এ দেশেও। আর ভাইরাসের সংক্রমণ রোখার জন্য নানা দাওয়াইয়ের কথাও হুহু করে ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এইসব গুজবে কান না দেওয়ার কথাই বারবার করে বলছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। কোনওকারণে সংক্রমণের আঁচ করা হলেই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এখন দেখে নেওয়া যাক কী কী রটছে নেট দুনিয়ায়।
পেঁয়াজ-রসুনের টোটকা— এই দাওয়াইয়ের কথা বড় বড় করে সাইনবোর্ডে লিখে নাকি রাস্তায় সাজিয়ে রেখেছে কেরলের একটি রেস্তোরাঁ। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে এখন হিমশিম খাচ্ছে কেরল। সেখানেই তিনজন রোগীর শরীরে ভাইরাস পজিটিভ। ঘরবন্দি বহু মানুষ। রেস্তোরাঁর মালিকের দাবি, রসুনের কোয়া সিদ্ধ করে খেলে নাকি ভাইরাস থাবা বসাতে পারে না শরীরে। তাঁর আরও দাবি, পেঁয়াজ খেলেও নাকি ভাইরাসের রোগ একেবারে সেরে যায়।
গোমূত্র ও গোবর—গোমূত্রের অনেক গুণের কথা আগেও ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। এবার করোনা সারানোর জন্য নাকি গোমূত্রের নিদান দিয়েছেন হিন্দু মহাসভার প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপাণি মহারাজ। তাঁর দাবি, শিবের মন্ত্র জপ এবং গোমূত্র ও গোবরে যে কোনও ভাইরাসজনিত রোগ দুদ্দাড় করে পালায়। আর নিয়মিত গোমূত্র খেতে পারলে তো কথাই নেই, করোনা কেন কোনও ভাইরাসই নাকি আর আসবে না দেশে।
মধু ও ফুলগাছ— মধুর নানা গুণ আছে সেটা ঠিক। তবে নোভেল করোনাভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ মধুতে সারবে কি না সেটা এখনও নিশ্চিত করেননি বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলেনি। তবে চিনের কয়েকজন ডাক্তার, বিজ্ঞানী নাকি দাবি করেছেন, মধু এবং ফুলগাছের নির্যাস নাকি ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দেয়। এই খবর ছড়াবার পরে চিনের অনেকেই বাড়িতে এই টোটকা ব্যবহার করে দেখেছেন। তবে তাতে রোগ সেরেছে কি না, সেটা জানা যায়নি।
তারামন্ত্র— ওষুধে রোগ না সারলে আধ্যাত্মিক কাজকর্মে সারবে, এমনটাই দাবি চিনের বহু মানুষের। তারামন্ত্র জপ করলে করোনাভাইরাসের রোগ সারে এমন কথা নাকি ফলাও করে ছাপা হয়েছে সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অফিসিয়ার ওয়েবসাইটে। তার থেকেও বড় চমক, এই মন্ত্র জপ করার কথা নাকি বলেছেন স্বয়ং দলাই লামা। চিনে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত এই মন্ত্র জপ করার কথা নাকি বলেছেন তিনি। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।