দ্য ওয়াল ব্যুরো : দু'দিন আগেই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড থেকে জানানো হয়েছে, রাজস্থানে বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটকে নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা মিটে গিয়েছে। বুধবার বিদ্রোহীদের নিয়ে সুর নরম করলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। তাঁর অনুগামী বিধায়করা গত কয়েকদিন ধরে আছেন জয়সলমিরের এক হোটেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, বিধায়করা স্বাভাবিক কারণেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। তবে পুরানো কথা ভুলে যাওয়াই ভাল। আমি বিধায়কদের বলেছি, ফরগেট অ্যান্ড ফরগিভ। আগামী দিনে আমরা কীভাবে রাজ্যের উন্নতির জন্য কাজ করব, তা নিয়েই এখন মাথা ঘামানো যাক।
https://twitter.com/ANI/status/1293416329744089088
গেহলোটের কথায়, "বিধায়করা যদি স্তম্ভিত হন, অসন্তুষ্ট হন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। গত এক মাস ধরে যা ঘটেছে, তাঁদের যেভাবে হোটেলে থাকতে হয়েছে, তাতে এমন প্রতিক্রিয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তাঁদের বুঝিয়ে বলেছি, কোনও কোনও সময় অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।"
পরে গেহলোট বলেন, "কেউ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হবে। এখন দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। আমার পক্ষে ১০০ জনের বেশি বিধায়ক আছেন। কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপি যা করেছিল, রাজস্থানে তা করতে পারেনি। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।"
সোমবার ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় রাজস্থানের বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটের। এদিন বিকালে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শচীন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। সন্ধ্যায় শচীন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি নীতিগত প্রশ্ন তোলার জন্য তাঁরা বিদ্রোহ করেছিলেন। তাঁর কথা শোনার জন্য শচীন ধন্যবাদ দেন প্রিয়ঙ্কাকে। রাহুল বলেছেন, শচীনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি হবে। প্রিয়ঙ্কা তার সদস্য হবেন।
মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের ‘কাজের পদ্ধতির’ বিরোধিতা করেছিলেন শচীন। অশোক গেহলোটের শিবির থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু শচীন বলেন, কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। ৪২ বছর বয়সী শচীনের কথায়, “আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, নীতিগত কারণেই যা করার করেছি। দলের স্বার্থেই কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা দরকার ছিল।”
সোমবার গভীর রাতে একটি টুইট করেন শচীন। তাতে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা এবং কংগ্রেসের অন্যান্য প্রথম সারির নেতাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, “সোনিয়াজি, রাহুল গান্ধীজি, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীজি ও কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁরা আমার ক্ষোভের কথা শুনেছেন। আমি নিজের বিশ্বাসে দৃঢ়। দেশের উন্নতির জন্য আগামী দিনেও আমি কাজ করে যাব।”
শচীন দাবি করেছেন, রাজস্থানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব বদল করতে হবে। রাহুল তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অশোক গেহলোটকে সরানো সম্ভব নয়।