
শেষ আপডেট: 24 April 2020 18:30
ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী পাস্তুর ইনস্টিটিউটের নিউরোবায়োলজিস্ট জিন-পিয়েরে চ্যাঙসাজ় বলেছেন, নিকোটিন ভাইরাল প্রোটিনকে মানুষের দেহকোষের ভেতরে ঢুকতে দেয় না। দেহকোষের যে সারফেস প্রোটিন বা বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধে ভাইরাস কোষের মধ্যে ঢোকে, সেই জোট বাঁধার প্রক্রিয়াকে আটকে দেয় নিকোটিন। গবেষক বলেছেন, তার মানে এই নয় যে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য মানুষকে ধূমপান করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বরং নিকোটিনের অনেক খারাপ দিকও আছে। অতিরিক্ত ধূমপানে শরীরে ক্ষতি হয়।
গবেষক বলছেন, নিকোটিন কীভাবে করোনা রোগীদের উপর প্রয়োগ করা যাবে সেটা বারংবার ট্রায়ালের পরেই বোঝা যাবে। আপাতত নিকোটিন-প্যাচ প্রয়োগ করা হতে পারে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে। করোনা রোগীদের উপরেও প্রয়োগ করে দেখা হতে পারে এর প্রভাব কতটা কার্যকরী হচ্ছে।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে (NEJM) চিনের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণার রিপোর্ট বেরিয়েছিল মার্চ মাসে। সেখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন, ১০০০ জন করোনা রোগীর মধ্যে মাত্র ১২.৫% ধূমপায়ী। নিকোটিন রয়েছে যাঁদের শরীরে তাঁরা সংক্রমণ ঠেকাতে পেরেছেন অনেকটাই।
ফ্রান্সের সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্যারিসের নানা হাসপাতালে ভর্তি ১১ হাজার রোগীর মধ্যে মাত্র ৮.৫% ধূমপায়ী। গবেষক জাহির আমোরা বলেছেন, কোভিড সংক্রমণে রোগীদের শরীরে অধিক সাইটোকাইন ক্ষরণ অর্থাৎ ‘সাইটোকাইন ঝড়’কে নিকোটিন থামাতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে। সাইটোকাইনের মাত্রা বাড়লে যে প্রদাহ তৈরি হয় তাতে শরীরের কোষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদিও গবেষকের দাবি, নিকোটিন সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে কিনা সেটা এখনও গবেষণার স্তরেই রয়েছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় এমন তথ্য সামনে এসেছে। নিকোটিনের কার্যকারীতা কতটা সেটা ক্নিনিকাল ট্রায়ালের পরেই বোঝা যাবে।
সেই সঙ্গেই গবেষক সতর্ক করেছেন, এই গবেষণার রিপোর্ট কোনওভাবেই ধূমপানে আসক্ত হওয়ার কথা বলছে না। বরং সিগারেট খান না এমন রোগীদের শরীরে নিকোটিন-প্যাচ কতটা ডোজে প্রয়োগ করতে হবে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিকোটিনেই একেবারেই আসক্ত নন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে শুরুতেই এই ডোজের মাত্রা বাড়লে খারাপ ফল হতে পারে।