নোতর দাম নতুন করে গড়ে তুলতে অনুদানের আহ্বান ফরাসি প্রেসিডেন্টের, এগিয়ে আসছেন অনেকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধ্বংসী আগুনে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত প্যারিসের প্রাচীনতম নোতর দাম গির্জা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতেই আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি। এর পরেই গির্জা পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্বয়ং। দেশের সমস্
শেষ আপডেট: 17 April 2019 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধ্বংসী আগুনে চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত প্যারিসের প্রাচীনতম নোতর দাম গির্জা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতেই আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি। এর পরেই গির্জা পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্বয়ং। দেশের সমস্ত মানুষকে এই গির্জা ফের তৈরির জন্য এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এর মধ্যেই এগিয়ে এসেছেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী সালমা হায়েকের কোটিপতি স্বামী ও বিখ্যাত ফরাসি শিল্পপতি ফ্রাঁসোয়া অঁরি পিনো। ৮৫০ বছরের পুরনো ওই গির্জাকে ফের স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে ১০০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
কয়েক মাস ধরেই সংস্কারের কাজ চলছিল প্যারিসের নোতর দাম গির্জায়। সোমবার দুপুরে কাজ চলাকালীন আচমকা আগুন লেগে যায় সেখানে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন প্রায় ১০০ জন দমকলকর্মী। তাঁদের অক্লান্ত চেষ্টায় এক দিন পরে, মঙ্গলবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে তত ক্ষণে ভেঙে পড়েছে নোতর দাম গির্জার চূড়া ও ছাদ। পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে ছাদ-লাগোয়া কাঠের পাটাতনগুলিও। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গির্জার ভিতরের দেওয়ালে থাকা বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তিও। আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন এক দমকল কর্মী।

মঙ্গলবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গির্জার বাইরে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সেখানেই এই গির্জা পুনর্নির্মাণের জন্য অনুদান সংগ্রহ করা হবে বলে ঘোষণাও করেন তিনি। এর জন্য সমস্ত ফরাসি নাগরিকের পাশাপাশি বিশ্বের বিশিষ্টদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।
১১৬৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা লুইয়ের আমলে শুরু হয়েছিল নোতর দাম গির্জা তৈরির কাজ। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বানানো এই বিশাল ঐতিহ্যমণ্ডিত গির্জাটি পৃথিবীর স্থাপত্যের ইতিহাসের এক সৃষ্টি কাজ বলে। সেই সৃষ্টিই আগুনে ছারখার হয়ে গেল সোমবার।
তবে এই প্রথম নয়। শতকের পর শতক ধরে আরও বহু বিপদেরও সম্মুখীন হতে হয়েছে ২২৬ ফুট উচ্চতার এই গির্জাকে। ১৭৯০ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় এই গির্জার ভিতরে থাকা বহু স্থাপত্য ও চারুকলা একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
ফরাসি ‘গথিক’ স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয় এই গির্জাকে। প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই গির্জা দেখতে আসতেন। এখন ফের নতুন করে নোতর দামের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ গড়ে ওঠার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী৷