জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকেও বিনামূল্যে মিলবে HPV ভ্যাকসিন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরায়ুমুখের ক্যানসার রুখতে টিকাকরণে আরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তাই সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি এবার বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও বিনামূল্যে দেওয়া হবে এইচপিভি ভ্যাকসিন (HPV Vaccine)। তবে পরিষেবা চালু করার আগে বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা বা এসওপি (SOP) জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই টিকার জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনও ধরনের ‘সার্ভিস চার্জ’ বা অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সব বেসরকারি হাসপাতাল এই টিকাকরণ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে চায়, তাদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (Chief Medical Officer of Health) কাছে আবেদন জানাতে হবে। অনুমোদন মিললেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে টিকাকরণ শুরু করা যাবে। সপ্তাহে সর্বাধিক দু’দিন এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভ্যাকসিন সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ‘কোল্ড–চেন’ (Cold Chain) থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা, সেশন শেষে ব্যবহৃত খালি ভায়াল এবং অব্যবহৃত ভর্তি ভায়াল ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের উপরেই। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, চার ঘণ্টা আগে খোলা কোনও ভায়াল ব্যবহার করা যাবে না। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে বা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে ওই টিকাকরণ কেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
টিকাকরণ শুরুর আগে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই সেই প্রশিক্ষণ হবে। পাশাপাশি প্রতিটি টিকাকরণের তথ্য ‘ইউ-উইন’ পোর্টালে (U-WIN Portal) নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে টিকা দেওয়া হবে, সেই কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকতে হবে। হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। টিকা নেওয়ার পরে অন্তত ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
এছাড়াও নজরদারির বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের (UNICEF) আধিকারিকরা যে কোনও সময় এই কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি টিকাকরণ কেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি ভ্যাকসিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও যুক্ত করা হচ্ছে। তবে বিনামূল্যে পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবং কোনও অনিয়ম রুখতেই এই কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে।