ভারতে জরায়ুমুখের ক্যানসার রুখতে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন দেবে কেন্দ্র। গার্ডাসিল টিকাকরণ এবং এর উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

জরায়ুমুখের ক্যানসার রুখতে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের বিনামূল্যে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন দেবে কেন্দ্র
শেষ আপডেট: 24 February 2026 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এদেশের মহিলাদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে জরায়ুমুখের ক্যানসার বা সার্ভিক্যাল ক্যানসার (Cervical Cancer)। এই মারণ রোগ নির্মূল করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই দেশজুড়ে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র।
২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছর পর, ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের জন্য দেশব্যাপী এইচপিভি টিকাদান অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি চালু হতে পারে, যা সারা দেশে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির অধীনে ২০২৭ সালের মধ্যে ২.৬ কোটি ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অ্যালায়েন্স গ্যাভির সহায়তায় ভারতে ১ কোটিরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বিনামূল্যে মিলবে ‘গার্ডাসিল’ টিকা
সরকারি সূত্রের খবর, এই কর্মসূচিতে ‘গার্ডাসিল’ (Gardasil) নামের কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা ব্যবহার করা হবে। এটি মূলত এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, যা জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি এটি টাইপ ৬ এবং ১১-এর সংক্রমণ রুখতেও সক্ষম।
বর্তমানে খোলা বাজারে এই ভ্যাকসিনের প্রতিটি ডোজের দাম প্রায় ৩,৯২৭ টাকা। ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য দু’টি এবং তার বেশি বয়সিদের জন্য তিনটি ডোজ প্রয়োজন হয়। তবে সরকারি এই বিশেষ অভিযানের অধীনে কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে।
এক ডোজেই মিলবে সুরক্ষা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন মেনে এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণার ভিত্তিতে সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সি কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের একটি ডোজই দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ‘ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম’-এর বাইরে এটি একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন হিসেবে চালানো হবে।
কেন ১৪ বছর বয়সকেই বেছে নেওয়া হলো?
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই যদি এই টিকা নেওয়া যায়, তবে তার কার্যকারিতা সর্বাধিক হয়। তাই ১৪ বছর বয়সকে এই টিকাকরণের জন্য আদর্শ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মহিলা নতুন করে জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৪২ হাজার জনের মৃত্যু হয়। এই টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হলে মৃত্যুহার অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান
২০০৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটি এইচপিভি ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১৬০টি দেশে এই টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে। ভারত এই তালিকায় নাম লেখানোয় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত খুলল।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই ‘স্বাস্থ্য নারী’ (Swastha Nari) উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে কয়েক লক্ষ কিশোরীকে এই মারণ ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এই টিকাকরণের সুবিধা মিলবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এ রাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসকরাও। কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রুনা বল জানান, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। তাঁর কথায়, “জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচিতে এই টিকা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলে আমাদের রাজ্যের মেয়েরাও দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে এবং ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমবে।”