দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, ইজরায়েলের স্পাইওয়ার পেগাসাস ব্যবহার করে ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে ফ্রান্সেও। ফরাসি সরকারের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল অট্টল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাকরঁ বিষয়টি মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। তিনি পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের লা মন্ডে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, প্রেসিডেন্ট মাকরঁ সহ অনেকের ফোনে সম্ভবত পেগাসাসের মাধ্যমে আড়ি পেতেছেন মরক্কোর গোয়েন্দারা। মরক্কো থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, তারা পেগাসাস ব্যবহার করে না। লা মন্ডের বক্তব্য, ফ্রান্সের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপ সহ মোট ১৪ জন মন্ত্রীর ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল।
প্যারিসের স্বেচ্ছাসেবী সাংবাদিক গোষ্ঠী ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ গত রবিবার জানায়, ইজরায়েলের এনএসও কোম্পানির তৈরি স্পাইওয়ারের সাহায্যে বিশ্ব জুড়ে রাজনীতিক, শিল্পপতি, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতা হয়। এনএসও বিবৃতি দিয়ে বলে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা কেবল সরকারি সংস্থাকেই ওই স্পাইওয়ার বিক্রি করে। সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই পেগাসাস তৈরি করা হয়েছে।
এনএসও গ্রুপ সাফাই দিয়ে বলেছে, পেগাসাসের অপব্যবহার হয়েছে কিনা তার তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে এই সফটওয়্যার সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়াও হতে পারে। ২০১৬ সালের ২৫ অগস্ট, এই গ্রুপের বানানো ‘পেগাসাস’ সফটওয়্যারকে কুখ্যাত ম্যালওয়্যার হিসেবে চিহ্নিত করে ‘সিটিজেন ল্যাব।’ সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, এই সফটওয়্যার একবার ইনস্টল হয়ে গেলে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেস আইওএস-কে তছনছ করে দেয়। ফলে আইমেসেজ, জিমেল, ভাইবার, ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম, স্কাইপি-সহ যাবতীয় অ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্য মুহূর্তেই বেহাত হয়ে যায়। এমনকি হ্যাকাররা সহজেই জেনে নিতে পারে মোবাইলের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডও।
পেগাসাস নিয়ে বর্তমানে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। দেশের সরকার ও বিরোধীপক্ষের একাধিক রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিল্পপতি সহ নামী ব্যক্তিত্বদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ৩০০টি ভেরিফায়েড মোবাইল নম্বর টার্গেট করা হয়েছে। এই ব্যাপারে কানপুর আইআইটির সাইবার বিশেষজ্ঞ ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সন্দীপ শুক্ল বলেছেন, ফোনে আড়ি পাতার নতুন কৌশল আয়ত্ত করেছে এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস এখন অনেক অপডেটেড। তাই ম্যাকাফে বা অন্যান্য কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা কোম্পানিগুলোও ফাঁপরে পড়েছে। কীভাবে এই ম্যালওয়্যারকে রোখা যাবে, সে প্রযুক্তি আপাতত তাদের কাছে নেই।