
অভিশপ্ত বণিক বাড়ি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 12:12
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাত্র ছ'মাস আগে পৃথিবীর আলো দেখেছিল দুই ভাইবোন অঙ্কিত আর অস্মিতা। বাজি কারখানার বিস্ফোরণ (Patharpratima Blast) রেহাই দিল না তাদেরও। প্রাণ কাড়ল ৯ বছরের অর্ণব আর ৬ বছরের অনুষ্কারও। এতগুলির শিশুর মৃত্যুতে শোকের আবহ রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। এরা সবাই অভিশপ্ত বনিক পরিবারের সন্তান। খুড়তুতো-জ্যাঠতুতো ভাইবোন।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট (Patharpratima News) থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাত ছিল এতটাই, যে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায় সেই শব্দ। উড়ে যায় বাড়ির ছাদ। এত জোরে বিস্ফোরণ হয় যে, বাড়ির আসবারপত্র ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের মাঠে। জানলার গ্রিল-সহ দেওয়াল উড়ে যায় পাশের এলাকায়।
তৃতীয় ঘেরি এলাকার ওই অভিশপ্ত বাড়িতে থাকতেন বণিক পরিবারের ১১ জন সদস্য। বাজি তৈরির পারিবারিক ব্যবসা তাদের। ব্যবসা সামলাতেন দুই ভাই চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিক। সোমবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁদের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুরমা প্রভাবতী বণিক (৮০) , চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক (২৮), দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) এবং অঙ্কিত বণিকের(৬ মাস)। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তুষারের স্ত্রী রূপা বণিক। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁরও। এখন বাড়ির তিন জীবিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত দুই ভাই চন্দ্রকান্ত, তুষার ও তাদের মা।
সোমবার রাতে যখন ইদ উদযাপনে ব্যস্ত রাজ্যের মানুষের একাংশ। তখন হঠাৎই কেঁপে ওঠে পাথরপ্রতিমার ঘেরি এলাকা। স্থানীয়রা প্রথমে বাজি ফাটছে ভাবলেও পরপর বিস্ফোরণ হওয়ায় তাঁরা ভয় পেয়ে যান। বেরিয়ে দেখতে পান দাউদাউ করে জ্বলছে বণিকদের আস্ত দোতলা বাড়ি। রুটি রুজির বাজিই শেষ করে দিল গোটা পরিবারকে। রক্ষা পেল না দুধের শিশুরাও।