১৫ বছর ধরে পণের দাবিতে নির্যাতিতা হকি চ্যাম্পিয়ন সুরজ! তাঁকে নিয়েই তৈরি হয়েছিল 'চাক দে ইন্ডিয়া'
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগানো হিন্দি সিনেমার নামের তালিকার প্রথম দিকেই আসে 'চাক দে ইন্ডিয়া'র নাম। ভারতীয় মহিলা হকি দলের বিশ্বজয়ের গল্প বড় সুন্দর ভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিল শাহরুখ খান অভিনীত এই সিনেমাটি। এই সিনেমার পেছনে ছিলেন,
শেষ আপডেট: 21 February 2020 07:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগানো হিন্দি সিনেমার নামের তালিকার প্রথম দিকেই আসে 'চাক দে ইন্ডিয়া'র নাম। ভারতীয় মহিলা হকি দলের বিশ্বজয়ের গল্প বড় সুন্দর ভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিল শাহরুখ খান অভিনীত এই সিনেমাটি। এই সিনেমার পেছনে ছিলেন, ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সুরজ লতা দেবী। মণিপুরের এই তরুণীর জয়ের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছিল 'চাক দে ইন্ডিয়া'। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ আনলেন সেই সুরজ লতা!
ঘটনার কথা সামনে আসতেই চমকে গেছেন সকলে। জাতীয় মহিলা হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াইখোম সুরজ লতা দেবীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁকে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। ২০০৫ থেকে চলছে এই অত্যাচার। এত বছর পরেও বদলায়নি পরিস্থিতি। শুধু পণের দাবিতেই নয়, তাঁর অভিযোগ, তাঁর কেরিয়ার ও সাফল্য নিয়েও প্রতিনিয়ত শ্বশুরবাড়ির কাছে কটু কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে।
তথ্য বলছে, সুরজ লতার অধিনায়কত্বে ২০০২-এ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতে ভারত। ২০০৩ সালে অ্যাফ্রো-এশিয়ান গেমস এবং ২০০৪ সালে হকি এশিয়া কাপেও দেশকে সোনা এনে দেন তিনি। পান অর্জুন পুরস্কার। মণিপুরের পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থেকে উঠে এসে ভারতীয় নারী হকি দলকে বিশ্বের আঙিনায় উপস্থাপিত করেছিলেন তিনি। এই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ২০০৭ সালে তৈরি হয় 'চাক দে ইন্ডিয়া' ছবিটি।
২০০৫ সালে পঞ্জাবের বাসিন্দা সান্টা সিংকে বিয়ে করেছিলেন ইম্ফলের তরুণী ওয়াইখোম সুরজ লতা। তাঁদের দু'টি সন্তানও হয় কয়েক বছর পরে। বুধবার ইম্ফলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর উপরে দীর্ঘদিন ধরে চলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আনেন সুরজ লতা। জানান, সন্তানদের কথা ভেবেই এতদিন তিনি চুপ করে ছিলেন। কিন্তু অত্যাচার সীমা ছাড়ানোয় তিনি পঞ্জাবের সুলতানপুর থানায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন।
ইম্ফলের সাংবাদিক সম্মেলনে সুরজ বলেন, "পণের দাবিতে নিয়মিত মারধর করা হতো আমায়। শুধু তাই নয়, আমি যত পুরস্কার-পদক পেয়েছি, সেগুলো নিয়ে আমার স্বামী সান্টা সিং উপহাস করেছেন। ব্যঙ্গ করেছেন, এগুলো কী কাজে লাগবে বলে। টুর্নামেন্ট চলাকালীনও মারধর করত আমায়। এমনকি আমি যে অর্জুন পুরস্কার পেয়েছি, সেটাও নাকি অনৈতিক কার্যকলাপের কারণেই পেয়েছি, এমনই দাবি করেছেন সান্টা সিং। আমি এতদিন আশা করেছিলাম, পরিস্থিতির বদল হবে। কিন্তু আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙেছে।"
সুরজ লতার কথা জানার পরে বিস্মিত সকলেই। যাঁর খেলোয়াড় জীবন ঘিরে তৈরি হয়েছে দেশের অন্যতম সেরা এক নারীবাদী সিনেমা, তাঁরই দাম্পত্য জীবন আদতে ক্ষতবিক্ষত পুরুষতান্ত্রিক আস্ফালনে! এ যেন মেনে নেওয়াই কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।