
ধৃত ব্যক্তি।
শেষ আপডেট: 31 March 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! অশোকনগর কিডনি পাচার চক্রের (Kidney Trafficking Cases) তদন্তে নেমে সম্প্রতি বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্রের খবর, ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, দাতাদের তালিকায় এমন ২৫ জন রয়েছেন যারা চড়া সুদে নেওয়া ঋণ শোধ করতে না পেরে বাধ্য হয়েছিলেন নিজেদের একটি করে কিডনি বিক্রি করতে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যারা এই কিডনিগুলি গ্রহণ করেছেন তাদের অধিকাংশই এরাজ্যের তো নয়ই এমনকি এই দেশের বাসিন্দাও নন! গ্রহীতাদের কেউ নেপাল কেউ বা বাংলাদেশ, ভুটানের বাসিন্দা।
সেই সূত্রে কিডনি পাচারের নেপথ্যে বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। কারণ, কলকাতা ও লাগোয়া অঞ্চলের তুলনায় আন্তর্জাতিক কালো বাজারে কিডনি বহুমূল্য। ফলে পাচার চক্রের নেপথ্যে বিদেশি এজেন্ট কে, তারও খোঁজ করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে অশোকনগরের যে ২৫ জন চড়া সুদের দায়ে কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন,সেই সুদের কারবারীদেরও খোঁজ খবর শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
সম্প্রতি কিডনি পাচার চক্রের তদন্তে নেমে বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে অশোকনগর থানার পুলিশ। সেই সূত্রে দুই আয়া-সহ আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুরো কিডনি পাচার চক্রের নেপথে রয়েছেন একজন চিকিৎসক এবং আইনজীবী।
সাধারণত, কেউ কিডনি দিতে চাইলে স্বাস্থ্য দফতর থেকে অনুমতি নিতে হয়। এরপর আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে তবেই কিডনি দান করা যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতর বাতিল করে দিয়েছে এমন একাধিক আবেদনই মোটা টাকার বিনিময়ে অনুমতি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ (Kidney Trafficking Cycle)।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই চিকিৎসক এবং আইনজীবীর কারসাজিতেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া আবেদনগুলি পরে অনুমোদন পেয়ে যেত। সেক্ষেত্রে পুরো ঘটনার নেপথ্যে স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ কর্মীর জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া জানিয়েছেন, কিডনি পাচার কাণ্ডে একাধিকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশের নজরে রয়েছে আরও কয়েকজন। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।