দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ত্রৈমাসিকে এশীয় দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতের মুদ্রার দাম কমেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, আগামী দিনে আরও দ্রুত হারে কমতে পারে টাকার দাম। কারণ বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হচ্ছে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হারে। চলতি বছরে জুলাই মাসে টাকার দাম সবচেয়ে বেড়েছিল। এখন তার দাম কমেছে তখনকার তুলনায় পাঁচ শতাংশ।
অর্থনীতিবদরা বলছেন, সরকারের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার ওপরে নন ব্যাঙ্ক ফিনান্স সংস্থাগুলি থেকেও সহজে ঋণ মিলছে না। তার ফলেই কমছে টাকার দাম।
মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস থেকে ভারতের ক্রেডিট রেটিং আরও কমানো হয়েছে। কারণ এদেশে অর্থনীতির মন্দা যতদিন স্থায়ী হবে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে। দিন দিন সংকট আরও গভীর হয়েছে। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক লিমিটেডের চিফ ইকনমিস্ট ইন্দ্রনীল পান বলেন, “ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশের গতি হয়ে পড়েছে ধীর। এটাই হল এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সংকট। এর ফলেই টাকার দাম আরও কমতে পারে। কারণ বিকাশের গতি ধীর হওয়ার ফলে পুঁজি বিনিয়োগ হবে কম। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে টাকার দামের ওপরে।”
গত ত্রৈমাসিকে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন বেড়েছে ৪.৬ শতাংশ হারে। ২০১৩ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর জিডিপি বৃদ্ধির হার কখনও এত কমেনি। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার ধারণা জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও কমে আগামী দিনে ৪.২ শতাংশে দাঁড়াবে।
নভেম্বরের শুরুতে এক মার্কিন ডলারের দাম ছিল ৭২.২৪২৫ টাকা। টাকার দাম বাড়ানোর জন্য যদি কোনও উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে এক ডলারের দাম ৭৩ টাকার বেশি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।