দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরএনএ ভাইরাসকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবে। নমুনায় সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন রয়েছে নাকি অন্য আরএনএ ভাইরাস, সেটাও ধরতে পারবে এই পরীক্ষা পদ্ধতি। কোভিড সংক্রমণ ধরতে ক্রিসপার জিন-এডিটিং পদ্ধতিতে সম্মতি দিল মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ভারতে এই পদ্ধতিতেই ‘ফেলুদা’ পেপার-স্ট্রিপ টেস্ট কিট বানিয়েছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (আইআইজিবি)।
কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসের একাধিক ইউনিভার্সিটিতে এই পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। এফডিএ-র সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে কেমব্রিজের শার্লক বায়োসায়েন্সস। এই সায়েন্স রিসার্চ ফার্মের কর্ণধার ও সিইও একজন ভারতীয়। নাম রাহুল ধান্দা। তিনি বলেছেন, “করোনার সংক্রমণ পরীক্ষা করতে ক্রিসপার জিন এডিটিং পদ্ধতির পথ দেখিয়েছে শার্লক বায়োসায়েন্সেস। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগিতায় এই টেস্ট কিটের ডিজাইন করা হয়েছে। এফডিএ-র সম্মতি পাওয়ার পরে বাণিজ্যিক হারে এই টেস্ট কিট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
এমআইটিতে এই টেস্ট কিটের প্রযুক্তি ও ডিজাইনের দায়িত্বে রয়েছেন গবেষক ফেং ঝ্যাং। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড রিসার্চ টিমেও রয়েছেন। ফেং ঝ্যাং এই ক্রিসপার জিন-এডিটিং টেকনোলজির মূল গবেষক।
এমআইটি, শার্লক বায়োসায়েন্সসে কীভাবে ক্রিসপার জিন-এডিটিং কিট বানানো হচ্ছে?
গবেষক ফেং ঝ্যাং বলেছেন, জিন এডিটিং মানে হল কোনও নির্দিষ্ট জিনকে চিহ্নিত করে তাকে কাটাছেঁড়া করা। অর্থাৎ সেই জিনে যদি কোনও খারাপ কিছু থাকে তাকে ছেঁটে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় সঠিক জিনকে বসিয়ে দেওয়া। এখন কোভিড টেস্টের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে এমন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে যা রোগীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে।
সেটা কীভাবে? নমুনাকে একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে তার সঙ্গে ক্রিসপার মলিকিউল CAS13 যোগ করা হবে। যদি নমুনায় আরএনএ ভাইরাসের জিন থাকে তাহলে এই ক্রিসপার মলিকিউল তাকে খুঁজে বার করবে। তারপর সেই ভাইরাল জিনকে টুকরো টুকরো করে দেবে। এই সময় কিটেই থাকা ফ্লুরোসেন্ট ইন্ডিকেটর উজ্জ্বল হয়ে জানান দেবে যে ভাইরাস ধরা পড়ে গেছে।
ভারতে ক্রিসপার জিন-এডিটিং পদ্ধতিতে ‘ফেলুদা’ টেস্ট কিট বানিয়েছেন দুই বাঙালি গবেষক
সিএসআইআর-আইজিআইবি-র দুই বিজ্ঞানী ডক্টর সৌভিক মাইতি এবং ডক্টর দেবজ্যোতি চক্রবর্তী এই জিন এডিটিং পদ্ধতিতেই টেস্ট কিট বানিয়েছেন। তাঁদের বানানো টেস্ট কিট প্রেগনেন্সি কিটের মতোই পেপার-স্ট্রিপ কিট। এক ঘণ্টার মধ্যেই এই কিট সংক্রমণ নির্ভুলভাবে ধরে দেবে।

ফেলুদা টেস্ট-কিট কাজ করবে যেভাবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জিন এডিট করতে ক্রিসপার-ক্যাস-৯ ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। নমুনার মধ্যে যদি ভাইরাল জিন থাকে তাহলে তার সঙ্গে এই প্রোটিনের যোগাযোগ ঘটলেই স্ট্রিপের উপর একটা লাইন ফুটে উঠবে। এতে বোঝা যায় স্ট্রিপটি ঠিক মতো কাজ করছে। এর পরে যদি দ্বিতীয় একটি লাইন ফুটে ওঠে এবং রঙের বদল হয় তাহলে বুঝতে হবে সেই নমুনা পজিটিভ। অর্থাৎ যাঁর নমুনা তিনি করোনা সংক্রমিত। এই দ্বিতীয় লাইন দেখা না দিলে বুঝতে হবে ওই নমুনা নেগেটিভ। দেশে খরচসাপেক্ষ CAS13 প্রোটিনের বদলে CAS9 প্রোটিন দিয়েই কাজ শুরু হয়েছে।