স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত আপন, অত্যন্ত প্রিয় মানুষ ছিলেন মুকুলদা। মিষ্টভাষী, সুন্দর ব্যবহার ছিল তাঁর। বিপদে-আপদে জানতাম মুকুলদা ঠিক সুরাহা করবেন।”

ফিরহাদ হাকিম ও মুকুল রায়
শেষ আপডেট: 23 February 2026 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দিকে দলের আদর্শ, অন্য দিকে পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতা— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে বিদীর্ণ ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ কয়েকটা বছর। রবিবার গভীর রাতে সেই লড়াই থেমে গিয়েছে। প্রয়াত মুকুল রায় (Mukul Roy Death)। এক সময় যাঁর অঙ্গুলিহেলনে নড়াচড়া করত বাংলার রাজনীতির দাবার ঘুঁটি, সেই ‘চাণক্যে’র প্রয়াণে শোকাতুর ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim Mukul Roy)।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত আপন, অত্যন্ত প্রিয় মানুষ ছিলেন মুকুলদা। মিষ্টভাষী, সুন্দর ব্যবহার ছিল তাঁর। বিপদে-আপদে জানতাম মুকুলদা ঠিক সুরাহা করবেন।” কিন্তু এই মেদুর স্মৃতিচারণের মধ্যেও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, বিজেপির (BJP News) অত্যাচারে-ভয়ে তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন, আজ তিনি মারা গেলেন।
‘মমতাদির ডান হাত’
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় আদতে তৃণমূলের (TMC Mukul Roy) জন্মলগ্নের সমার্থক। ফিরহাদ মনে করিয়ে দিয়েছেন, দল গঠনের সময় থেকেই তিনি ছিলেন নেত্রীর ছায়াসঙ্গী। তাঁর কথায়, “পার্টি তৈরির সময় থেকেই মুকুলদা ছিলেন। মমতাদির ডান হাত বলতে যা বোঝায়, তিনি ঠিক তাই ছিলেন।” নয়ের দশকের গোড়ায় কংগ্রেসি রাজনীতি থেকে যে পরিচয় শুরু হয়েছিল, ১৯৯৭ সালে তৃণমূল গঠনের সময় তা পূর্ণতা পায়। দলের প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে রেলমন্ত্রী— তৃণমূলের অন্দরে মুকুলের জায়গা ছিল মমতার ঠিক পরেই।
বাধ্যবাধকতা না কি বিচ্যুতি?
২০১৭ সালে মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান ছিল বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় অঘটন। সেই প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “বিজেপির অত্যাচারে, ভয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। সেদিন থেকে লড়াই। একদিকে আদর্শ, একদিকে বাধ্যবাধ্যতা। আজ মারা গেলেন।”
উল্লেখ্য, ২০১৯-এর লোকসভায় বিজেপিকে ১৮টি আসন জেতানোর নেপথ্যে মুকুলের ‘সাংগঠনিক’ মগজকেই কৃতিত্ব দেয় দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে জিতেও বিজেপিতে মন টেকেনি তাঁর। সপুত্র ফিরে এসেছিলেন পুরনো ঘরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে দিন ঘরের ছেলেকে স্বাগত জানালেও অসুস্থতা আর ব্যক্তিগত শোক (স্ত্রী কৃষ্ণা রায়ের মৃত্যু) মুকুলকে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়।
শেষ অঙ্ক কাঁচরাপাড়ায়
প্রত্যাবর্তনের পর মুকুলের অসংলগ্ন কথাবার্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। কখনও নিজেকে ‘তৃণমূলের বিজেপি’ বলেছেন, কখনও বা নিখোঁজ হয়ে হঠাৎ দিল্লি চলে গিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিমও স্বীকার করে নিয়েছেন, মুকুল রায়ের শেষ জীবনটা কেটেছে এক কঠিন দোলাচলের মধ্যে। জীবনের শেষ কয়েকটা মাস কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন কোমায় চলে গিয়েছিলেন। রবিবার রাতে তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হল এক বিশেষ ঘরানার সাংগঠনিক রাজনীতির জমানাও।