২০২৩ সালে এই সাগরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের দিকে আর চাতক পাখি হয়ে লাভ নেই, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 4 January 2026 17:16
বহু বছর আগের কথা। এই সাগরেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, গঙ্গাসাগরে (Gangasagar Bridge) একটি স্থায়ী সেতু তৈরির জন্য কেন্দ্রের কাছে একাধিক বার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে তাঁর সরকার। যুক্তি ছিল, এত বড় প্রকল্প শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল, মুড়িগঙ্গা (Muri Ganga) নদীর উপর সেতু নির্মাণে কেন্দ্র সাহায্য করলে তাজপুর বন্দরে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়ানো যেতে পারে (Gangasagar News)।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও প্রশ্ন তুলেছিলেন, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলা যদি ‘জাতীয় মেলা’ হতে পারে, তা হলে কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন সেই মর্যাদা দেওয়া হবে না? কিন্তু সেই দাবিতেও দিল্লির সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে এই সাগরের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের দিকে আর চাতক পাখি হয়ে লাভ নেই, রাজ্য সরকারই নিজের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর সেতু গড়ে তুলবে। তার পরেই শুরু হয় টেন্ডারের প্রক্রিয়া। নানা বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে অবশেষে শিলান্যাসের পথে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের গঙ্গাসাগর সেতু।
গঙ্গাসাগরের ভৌগোলিক পরিচিতিও কম আকর্ষণীয় নয়। এক সময় প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা বর্তমানে ভাঙনের জেরে সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৩৩ বর্গকিলোমিটারে। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন প্রায় সাড়ে সাতশো জন মানুষ। মোট গ্রাম সংখ্যা প্রায় ৪৩। জনসংখ্যা আনুমানিক ১ লক্ষ ৯০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজারের মধ্যে। প্রত্যন্ত এলাকা হলেও শিক্ষার হার চোখে পড়ার মতো— প্রায় ৮৪ শতাংশের বেশি। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে শিক্ষার অগ্রগতি তাই যথেষ্টই উল্লেখযোগ্য।
এ বার আসা যাক সেতুর কথায়। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর তৈরি হবে এই গঙ্গাসাগর সেতু। দায়িত্বে থাকছে নির্মাণ সংস্থা এল অ্যান্ড টি। সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগকারী এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪ কিলোমিটার, অ্যাপ্রোচ রোড মিলিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার। চার লেনের এই সেতু এক দিকে যুক্ত হবে কাকদ্বীপের লট ৮-এর সঙ্গে, অন্য দিকে কচুবেড়িয়ার সঙ্গে। নোডাল দফতর পূর্ত দফতর। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা। নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগবে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার বছর।
প্রথম দিকে এই প্রকল্পের বাজেট ছিল ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকার মধ্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭০০ কোটিতে। সম্পূর্ণ হলে এটি হবে রাজ্যের নদীর উপর নির্মিত সবচেয়ে বড় সেতু।
সেতু চালু হলে সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে যাতায়াতে। এত দিন ভেসেলের উপর নির্ভর করেই নদী পার হতে হত। জোয়ার- ভাঁটার উপর নির্ভরশীল সেই ব্যবস্থায় ভাঁটার সময় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত সাগরদ্বীপ। সেতু তৈরি হলে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে। গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের দূরত্ব তখন আর নদীর মাঝখানে আটকে থাকবে না, স্থায়ী পথই হয়ে উঠবে নতুন যোগাযোগের মাধ্যম।