দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈচিত্র্যের দেশ ভারতে নানা মতের মতোই নানা ভাষা। শুধু সাংবিধানিক ভাষাই আছে ১২টি। সেই সঙ্গে অজস্র আঞ্চলিক ভাষা তো আছেই। কিন্তু দেশের একটা বড় অংশের মানুষের ভাষাই হিন্দি। তাই এই হিন্দি ভারতের একটি সরকারি ভাষাও বটে। এমনিতে পৃথিবীর কোন দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে কোনও ভারতীয় নেই। তাই সেই অর্থে পৃথিবীর সকল দেশেই কম-বেশি ভারতীয় ভাষার প্রচলন আছে। কিন্তু জানেন কি, ভারত ছাড়াও আরও একটি দেশ আছে, যেখানে হিন্দি শুধু বেশিরভাগ মানুষের ভাষাই নয়, সেখানকার সরকারি ভাষাও বটে! দেশটির নাম ফিজি।
ভারত থেকে অনেকটাই দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মেলানেশিয়া অঞ্চলে প্রায় ৩৩০টি দ্বীপ নিয়ে তৈরি এই দেশ ফিজি। এটি চলতি নাম হলেও, দ্বীপরাষ্ট্রটির আসল নাম রিপাবলিক অফ্ ফিজি। পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর দেশ বলেও মানা হয় ফিজিকে। ফিরজির মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনিন্দ্যনীয়। তথ্য বলছে, পৃথিবীর প্রথম কুড়িটি সুন্দর দেশের মধ্যে ফিজি একটি।

পৃথিবীর অন্য বহু দেশের মতোই এই দেশেও অনেক ভারতীয়র আনাগোনা। কিন্তু চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, ভারতবর্ষের ভাষা বলে পরিচিত হিন্দি ভাষা এই দেশটির সরকারি ভাষা। আর তার কারণ হল, দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষই হিন্দিভাষী।

ইতিহাস বলছে, ভারতের মতো এই দেশেও একসময় ব্রিটিশদের আধিপত্য ছিল। এই দেশ তারা যখন দখল করে, বুঝেছিল এ দেশের মাটির উর্বরাশক্তি জোরদার, কিন্তু সেখানকার অধিবাসীরা চাষবাসে অনভিজ্ঞ। তাই ইংরেজরা বিপুল পরিমাণে ভারতীয়কে জোর করে সেই দেশে নিয়ে যায় এবং তাদের দিয়ে চাষবাস শুরু করায়। পরে দেশটি স্বাধীন হলেও সেই ভারতীয়রা পাকাপাকি ভাবে অনেকেই সেখান থেকে যান। সেই কারণেই সেখানে এত বেশি হিন্দিভাষী মানুষ পাওয়া যায়।

বর্তমানে ৯ লক্ষ জনবসতিপূর্ণ সেই দেশে তিন লক্ষের বেশি মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। ইংরেজরা সেখানে মূলত ভারতীয়দের আখ চাষ করাত। দেশটি এখনও আখ চাষে এবং চিনি উৎপাদনে পৃথিবীতে বিখ্যাত। ১৯৭০ সালের ১০ অক্টোবর ইংরেজদের হাত থেকে মুক্ত হয় ফিজি। যদিও তারা এখনও পুরোপুরি স্ব-শাসিত নয়, ইউরোপিয়ান কমনওয়েলথের অংশ।

কিন্তু সে দেশের পতাকায় এখনও ব্রিটিশ ছাপ মেলে, টাকাতেও ব্রিটেনের রানির ছবি থাকে। ১৯৯৭ সালে দেশের প্রথম স্বাধীন সংবিধান রচিত হয়, যেখানে হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ২০০৩ সালে সেই সংবিধান বড় মাত্রায় সংশোধিত হয় কিন্তু সেখানেও হিন্দি ভাষাকে অগ্রাহ্য করা হয়নি। এই ভাষাগত কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেই মজা করে ছোট ভারতবর্ষ বলে ফিজিকে।

শোনা যায়, এক সময় এই দেশ সাংঘাতিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল। দেশের একটা বিপুল পরিমাণ মানুষ কালো জাদুতে বিশ্বাস করতো। এমনকি দেশের উৎসবে ক্যানিবালিজমের বিশেষ প্রচলন ছিল। অর্থাৎ সেখানকার বাসিন্দারা মানুষের মাংস খেতো। যদিও এই প্রথা এখন বিলুপ্ত হয়েছে। সভ্যতার আলোকে ফিজি এখন পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র।

ভারতবর্ষ থেকে অনেক অনেক দূরের এই দেশে আরও একটা মজার বিষয় হল, এখানকার গ্রামাঞ্চলে একমাত্র গ্রামের প্রধান ছাড়া আর কেউ টুপি পরতে পারেন না। তাই আপনি যদি কখনও এই দেশে ঘুরতে যান, টুপি পরা নিয়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বই কি!