দ্য ওয়াল ব্যুরো : লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur) কৃষকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বড় আন্দোলনে নামছে কৃষক সংগঠনগুলি। আগামী ১৮ অক্টোবর তাঁরা রেল অবরোধ করবেন। ২৬ অক্টোবর লখনউতে বসবে 'মহাপঞ্চায়েত'। কৃষকদের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে বরখাস্ত করতে হবে। গ্রেফতার করতে হবে তাঁর ছেলে আশিসকে।
স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব শনিবার বলেন, "দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা আগামী ১২ অক্টোবর লখিমপুর খেরিতে উপস্থিত হবেন। লখিমপুরে যা ঘটেছে, তা জালিয়ানওয়ালাবাগের চেয়ে কম নয়। আমরা প্রতিটি নাগরিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা আটটায় মোমবাতি মিছিল বার করে।"
পরে যোগেন্দ্র যাদব বলেন, "লখিমপুর খেরিতে যে কৃষকরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের চিতাভস্ম নিয়ে প্রতিটি রাজ্যে যাওয়া হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর দশেরার দিনে কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুল দাহ করবেন।"
গত রবিবার লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য জড়ো হয়েছিলেন কৃষকরা। তাঁদের জমায়েতের মধ্যে একটি এসইউভি ঢুকে পড়ে। গাড়ির ধাক্কায় চার কৃষক মারা যান। অভিযোগ, এসইউভি-র চালকের আসনে ছিলেন মন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্র। এদিন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সামনে উপস্থিত হন আশিস।
এদিন কৃষকরা তাঁদের আন্দোলনের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করার পরেই দিল্লিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। আশিস মিশ্রের গ্রেফতার দাবি করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন যুব কংগ্রেসের কর্মীরা।
কয়েকদিন আগে এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলেন, যে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি তাঁর ছেলেই ব্যবহার করেন। তবে চাষিদের চাপা দেওয়ার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না।
মন্ত্রীর কথায়, "আমরা প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, যে মাহিন্দ্রা গাড়িটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি আমাদের। আমাদের নামেই গাড়িটি রেজিস্ট্রি করা আছে। রবিবার গাড়িটিতে অপর একজনের ওঠার কথা ছিল। আমার ছেলে ওই জায়গায় ছিলই না। ওইদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অপর এক সভায় ব্যস্ত ছিল।" মন্ত্রীর দাবি, তাঁর ছেলে যে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন, সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ হয়েছিল। তার ছবি ও ভিডিও আছে। আশিসের মোবাইলের কল রেকর্ড ও লোকেশন দেখলেও সেকথাই প্রমাণিত হবে। হাজার হাজার মানুষ সাক্ষী দেবে, চাষিদের চাপা দিয়ে মারার সময় আশিস সেখানে ছিলেন না।