সম্প্রতি রাজ্যে ফিরেছেন তিনি। ঘরে ফেরার পরই জানিয়েছিলেন, "না খেয়ে মরে গেলেও ভাল, কিন্তু আর সীমান্তের জমিতে চাষ করতে যাব না।"

শীতলকুচির কৃষক উকিল বর্মনের ছেলে।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে (Pahalgam) জঙ্গিদের গুলিতে নিরীহ পর্যটকদের মৃত্যুর পর থেকেই সীমান্তে (Border) উত্তেজনা ছিল। এমন আবহে সীমান্তে চাষ করতে গিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BGB) হাতে আটক হয়েছিলেন কোচবিহারের শীতলকুলির কৃষক উকিল বর্মন।
সম্প্রতি রাজ্যে ফিরেছেন তিনি। ঘরে ফেরার পরই জানিয়েছিলেন, "না খেয়ে মরে গেলেও ভাল, কিন্তু আর সীমান্তের জমিতে চাষ করতে যাব না।" কাজে না গেলে সংসার চলবে কী করে, এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন উকিলের পরিবার। তবে বিষয়টি জানা মাত্রই শীতলকুলির কৃষক উকিলের ছেলেকে সরকারি কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ মেনে সোমবার সরকারি কাজের নিয়োগপত্র হাতে পেলেন শীতলকুলির কৃষক উকিল বর্মনের ছেলে পরিতোষ। কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজের সুপারভাইজার পদে কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী হিসাবে তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পরই এদিন সরকারি চাকরিতে যোগ দেন পরিতোষ। এদিন তাঁর চাকরিতে যোগদানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অভিজিৎ দে ভৌমিক ও কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া।
তাঁরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। সেই মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি চাকরি পেয়ে আপ্লুত উকিলের ছেলে পরিতোষও।
মিডিয়ার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "বাবা সীমান্তের জমিতে চাষের কাজ করতো। পাকিস্তানের জঙ্গি হানার মধ্যেই বাবাকে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে ওরা বিজিবির হাতে তুলে দেয়। বাংলাদেশের জেলেও বাবার ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। আতঙ্কে বাবা আর কাজে যাবে না বলেছিল। ফলে কীভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছিলাম না। মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। উনি এভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন বলেই আমাদের সংসারটা বেঁচে গেল।"