দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই শিশু-সহ এক মহিলা এবং এক বৃদ্ধা দম্পতি ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে ফ্ল্যাট সিল করে দিল পুরকর্মীরা! বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সকলে। তার পরেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে সরকার, খুলে দেওয়া হয় গেট। পরে ক্ষমাও চেয়ে নেন পুর কর্তৃপক্ষ।
কর্নাটকে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এর মধ্যেই মঙ্গলবার শেষ হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন, আর গোটা রাজ্যে লকডাউন করা হবে না। এবার শহরে বা রাজ্যে কনটেনমেন্ট জোনগুলিতেই আরও কড়াকড়ি করা হবে। তার বাইরে আর লকডাউন করা হবে না। সে জন্যই যে সমস্ত বাড়িতে বা আবাসনে কোভিড আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিলেছে, সেগুলিতে ঢোকা-বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা স্থাপন করা হচ্ছে সরকারের তরফে। সিল করে দেওয়া হচ্ছে সেগুলি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এইভাবে কনটেনমেন্ট এাকা সিল করতে গিয়েই বেঙ্গালুরুর পুর কর্পোরেশনের কর্মীরা ডোমলুরের কাছে দুটি ফ্ল্যাটের দরজা সিল করে দেন। অভিযোগ, ফ্ল্যাটের ভিতরে দুই শিশু-সহ এক মহিলা ও এক বৃদ্ধ দম্পতি থাকেন। তাঁদের প্রয়োজনের কথা শুনতেও চাননি ওই কর্মীরা। ঘটনাটি সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ক্ষোভের মুখে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে ব্যারিকেডগুলি খুলে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় স্তরের কর্মীদের ‘অতি উৎসাহ’ নিয়েও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।
কর্নাটকে করোনা সংক্রমণ রুখতে বাড়ির মধ্যে থাকাকেই সবচেয়ে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে তা জরুরি। সে জন্যই সিল করা নিয়ে এত কড়াকড়ি। তা করতে গিয়েই বিপত্তি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই কর্নাটকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে করোনাভাইরাসের। একদিনে সংক্রামিত ৫০০০-এরও বেশি, মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। গোটা দেশেও গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ছুঁতে চলেছে।