ঘটনার সূত্রপাত ৭ মে, বুধবার। অন্তঃসত্ত্বা মনিকা দেবনাথ (২৫)-কে নিয়ে রানাঘাট পৌরসভা পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেছিলেন ননী দেবনাথ। ভ্যাকসিন দিতে ও পোলিও কার্ড করাতে।
.jpg.webp)
মনিকা দেবনাথ
শেষ আপডেট: 20 May 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অন্তঃসত্ত্বাকে দেওয়া হল মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ। সেই নিয়ে উত্তাল রানাঘাট। এনিয়ে মঙ্গলবার আসরে নামে বিজেপি। রাস্তা অবরোধ করে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। যদিও রানাঘাট পৌরসভার পৌরপ্রধানের দাবি, বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে। সব ঠিকই আছে। ওই অন্তঃসত্ত্বাও ভাল আছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ৭ মে, বুধবার। অন্তঃসত্ত্বা মনিকা দেবনাথ (২৫)-কে নিয়ে রানাঘাট পৌরসভা পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেছিলেন ননী দেবনাথ। ভ্যাকসিন দিতে ও পোলিও কার্ড করাতে। অভিযোগ, চিকিৎসক ছিলেন না। আশা কর্মীরা ওজন মেপে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার চেক করে কিছু ভিটামিন ও আয়রন দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়ি ফিরেই সে ওষুধ খাওয়াও শুরু করে দেন। কিছুদিন পর থেকে সমস্যা শুরু হয়। গায়ে ব়্যাশ ও জ্বালাভাব হতে থাকে। পরশুদিন ওষুধপত্র ঘেঁটে তাঁরা দেখতে পান, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
মনিকার স্বামীর অভিযোগ, তাঁরা বিষয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানালেও সেখান থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। চিকিৎসরাও পরে জানান, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ খেলে কোনও সমস্যা হয় না। তবে, পরিবারের বক্তব্য, এমন ওষুধ যদি সাধারণ কোনও চিকিৎসায় দেওয়া হত, জ্বর-সর্দির মতো তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু একজন অন্তঃসত্ত্বাকে এভাবে এই ওষুধ দেওয়া কি আদৌ ঠিক?
এনিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা মনিকার স্বামী ননী দেবনাথ বলেন, 'আমরা প্রথমে ফোন করে জানাই ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, 'কিছু জানি না' বলে ফোন কেটে দেয় প্রথমে। তারপর আমার যখন যাই, ওরা কে কার ওপর দোষ চাপাবে সেই নিয়ে ব্যস্ত। তারপর চেয়ারম্যান সাহেব আসলেন, আমাদের পৌরসভার একটি নার্সিং হোমে নিয়ে গেলেন। ডাক্তারবাবু বললেন, কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু আমরা পদক্ষেপ করেছি। পৌরপ্রধান বলছেন, তদন্ত করে দেখবেন। কিন্তু আমাদের পরিবার তো চাপে আছে। জ্বর হলে এমন ওষুধ দিলে ঠিক আছে। কিন্তু একজন অন্তঃসত্ত্বাকে এমন ওষুধ কে দেয়। বাচ্চার কিছু হলে ভিতরে তো আমাদের সারাজীবন ভুগতে হবে।'
ননী দেবনাথ জানান, অভিযোগ পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিরক্ত হচ্ছিলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও চিকিৎসকও ছিলেন না যে বলব কিছু। আশা কর্মীরাই সবটা দেখেন।
এনিয়ে মনিকা দেবনাথ বলেন, 'আমি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সব দেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভিটামিন, আয়রন ও কৃমির ওষুধ দেয়। পরশুদিন থেকে শরীরে জ্বালাভাব শুরু হয়। যেটা খাচ্ছিলাম সেটা পরে চেক করে দেখি মেয়াদ পেরিয়ে গেছে।'
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন নোডাল অফিসার ডঃ অভিরূপ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, তিনজন চিকিৎসকের সঙ্গে এই নিয়ে কথা হয়েছে। এটাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রোগীকে সমস্ত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি টিমও তৈরি করেছেন। উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এনিয়ে মঙ্গলবার রাস্তায় নামে বিজেপি। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি তৃণমূল। রানাঘাট পৌরসভার প্রধান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় এনিয়ে বলেন, 'আন্দোলনের নামে রোগী পরিবারের ওপর অত্যাচার, ডাক্তারকে খুনের হুমকি দেওয়া, ধাক্কা দেওয়া। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে বিজেপি। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ। গতকাল সামান্য ঘটনা হয়েছে, আমি নিজে কথা বলেছি ডাক্তারের সঙ্গে। সুপার বলেননি ভয়ের ব্যাপার আছে। বিজেপি মিথ্যা বলছে, ইস্যু করার চেষ্টা করছে। এটা কী রাজনীতি? মহিলা স্টাফের গায়ে হাত দিয়েছে। এটা কোন নোংরা রাজনীতি? আমরা তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ করব। আমি তিনজন চিকিৎসককে নিজে দেখিয়ে দিয়েছি।'
আপাতত এনিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে দেবনাথ পরিবার। তাঁদের এখন একটাই দাবি, এমন যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।