
শেষ আপডেট: 27 May 2020 18:30
মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাদের নির্দেশিকায় আগেই বলেছিল, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের থেকে সাবানের জীবাণু খতম করার ক্ষমতা বেশি। ভাইরাসের লিপিড মেমব্রেন নষ্ট করে দিতে পারে সাবান। তবে অন্যের ব্যবহার করা বার সাবানে মন খুঁতখুঁত করলে লিকুইড সাবান ব্যবহার করা যেতেই পারে। তবে সেখানেও কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হয়। লিকুইড সাবান সাধারণত থাকে প্লাস্টিক কন্টেনারে। সাবান বের করতে হলে পাম্প করতে হয়। সেক্ষেত্রে একটাই প্লাস্টিকের বোতল যদি অনেকে হাত দিয়ে ধরেন, তাহলে ঝুঁকির কারণ আছে। কারণ করোনাভাইরাস প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থের উপরে অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে।
এবার আসা যাক বার সাবানের প্রসঙ্গে। নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞানী ড্যারিয়েন সাটন বলছেন, সাবান ভাইরাসের আঁতুরঘর নয়। সাবানের উপরে কখনওই ভাইরাস জমে থাকতে পারে না। গায়ে মাখার বার সাবান ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার থেকে কতটা সুরক্ষিত সেটা জানতে ১৯৬৫ সালেই একটি পরীক্ষা করেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যেখানে সংক্রামক স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, স্ট্যাফাইলোক্কাস পারস্পরিক ছোঁয়া থেকে ছড়াতে পারে কিন্তু সাবানের মাধ্যমে ছড়াতে পারে না।
একই রকম আরও একটি পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। যেখানে সংক্রামিত ব্যক্তিদের ব্যবহার সাবান নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ই কোলাই ও সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়া সাবানের মাধ্যমে ছড়াতে পারে কিনা তার পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। সেখানেও দেখা গিয়েছিল, সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া সাবানের মাধ্যমে এক শরীরে থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে না।
তবে করোনাভাইরাস যেহেতু অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের থেকেও বেশি প্রাণঘাতী এবং সংক্রামক, তাই শঙ্কার কারণটা একটু বেশিই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবানের মাধ্যমে করোনা সংক্রামিত হতে পারবে না, তবে সাবান যেখানে রাখা হচ্ছে সেই জায়গাটা পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। প্রতিবার ব্যবহারের পরে সাবান ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে রাখা উচিত, যেখানে রাখা হচ্ছে সেখানে যাতে জল বা সাবানের ফেণা জমে থাকতে না পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। বাথরুম বা সাবান যদি অনেকের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে সতর্কতা একটু বেশিই রাখতে হবে।
এবার দেখা যাক হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবানের মধ্যে কোনটা বেশি উপযুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু একাধিকবার স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করলে অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হাতে র্যাশ, চুলকানি, ছাল উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ এই ধরনের স্যানিটাইজার ত্বককে অনেক বেশি শুষ্ক করে দেয়। যাঁদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক প্রকৃতির বা সোরিয়াসিস, এগজিমার মতো ক্রনিক ত্বকের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে সাবানই বেশি শ্রেয়। বিশেষত শুষ্ক সোরিয়াসিস ত্বকের জন্য সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ময়শ্চারাইজার বা নারকেল তেল মেখে নেওয়া অনেক বেশি উপযোগী।