
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 October 2024 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটাতে মহাষ্টমীর দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেল পাঠাল চিকিৎসক সংগঠন জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস। সিনিয়রদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জুনিয়র ডাক্তারদের দাবিগুলিকে প্রশাসনিক স্তরে গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে যেন দেখা হয়।
শুক্রবার সকালে চিকিৎসক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক পুণ্যব্রত গুণ এবং হীরালাল কোনার মুখ্যমন্ত্রীকে মেল পাঠিয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে সরকারকে আলোচনায় বসারও অনুরোধ করেছেন তাঁরা।
জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এর আগেও একাধিকবার সরকাররকে ইমেল পাঠায় চিকিৎসক সংগঠন। এদিকে গত শনিবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনশনরত জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো। অনিকেত অসুস্থ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেল পাঠালেন তাঁরা।
জুনিয়ররা আমরণ অনশন শুরুর পর বুধবার সরকার আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। কিন্তু তাতে লাভ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, সরকার নতুন কিছু বলছে না। শুধু মৌখিক আশ্বাস দিয়ে অনশন তুলে নেওয়ার কথা বলছে। যদিও অনশন যে এ ভাবে উঠবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
অন্যদিকে এমন অবস্থায় আরও জোরালো আন্দোলনের বার্তা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের। শুক্রবার বিকেলে ধর্মতলার অনশন মঞ্চের কাছেই এক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে দেবাশিস হালদার নাগরিক সমাজকে আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন। সমাবেশ যোগ দিতে আসা সাধারণ মানুষদের হাতে লিফলেট তুলে দেবেন তাঁরা।
সমাবেশ কখন শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করেননি জুনিয়র চিকিৎসকরা। অনিকেতের অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা জানান, ১০ দফা দাবিতে আমাদের সহযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন। তাঁদের প্রতি সংহতি দেখিয়ে প্রত্যেক মানুষের আবেগকে এখানে এনে জড়ো করুন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবারই অনিকেতকে নিয়ে যাওয়া হয় আরজি কর হাসপাতালে। আপাতত সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
আর জি করে পড়ুয়া চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনার পর থেকেই রাজ্যে নানা অংশের মানুষ প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। বিগত ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাত দখল, রাস্তা দখল, মিছিল, সমাবেশ, গান, কবিতা, নাটকের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদে মুখর রয়েছেন। প্রতিবাদী কন্ঠকে স্তব্ধ করতে সরকার, পুলিশ ও শাসক দলের দুষ্কৃতীরা চেষ্টা করেই যাচ্ছে। মিথ্যা মামলায় প্রতিবাদীদের জেলবন্দী করে আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চাইছে।
গত ৯ই অক্টোবর কয়েকজন প্রতিবাদী বিচারের দাবিতে স্লোগান দেওয়ায় তাদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে ১০ দফা দাবিতে জুনিয়ার চিকিৎসকদের অনশন শুরু হয়েছে গত শণিবার সন্ধ্যা থেকে। অনশনকারী চিকিৎসকদের কয়েকজনের শারিরীক অবস্থা সঙ্কটজনক। এ'বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বিকার। রাজ্য সরকার যে কোনও মুল্যে এই আন্দোলনকে দমন করতে চাইছে।
এই পরিস্থিতিতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন, গণতান্ত্রিক, সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আবেদন জানাচ্ছে বামফ্রন্ট। আজ বিকালে ধর্মতলায় সমাবেশে সর্বস্তরের জনগণকে সামিল হওয়ার জন্য বামফ্রন্ট অনুরোধ করছে।