স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাত প্রায় বারোটা নাগাদ প্রথম হাতির দেখা মেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় হাতিটিও গ্রামে ঢুকে পড়ে। কখনও পাড়ার রাস্তা ধরে ঘোরাফেরা, কখনও হানা ফসলের জমিতে। হাতির গর্জনে কেঁপে ওঠে এলাকা।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়ার (Bankura) গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের শালতোড়া গ্রামে বুধবার রাত যেন নেমে এসেছিল আতঙ্কের ছায়া নিয়ে। গভীর রাত থেকে দু’টি বুনো হাতির তাণ্ডবে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা গ্রাম (Elephant rampage all night in Shaltora)।
হঠাৎই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে হাতি দু’টি। শুরু হয় দাপাদাপি। ভাঙচুর হয় একাধিক কাঁচা বাড়ি, তছনছ হয়ে যায় মাঠের ফসল। প্রাণভয়ে রাতভর জেগে কাটাতে বাধ্য হন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, রাত প্রায় বারোটা নাগাদ প্রথম হাতির দেখা মেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় হাতিটিও গ্রামে ঢুকে পড়ে। কখনও পাড়ার রাস্তা ধরে ঘোরাফেরা, কখনও হানা ফসলের জমিতে। হাতির গর্জনে কেঁপে ওঠে এলাকা। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বহু মানুষ। কেউ আশ্রয় নেন খোলা মাঠে, কেউ আবার আত্মীয়ের বাড়িতে।
গ্রামবাসীরা হাতি তাড়াতে মাইক বাজানো, ঢাকঢোল পেটানো, টর্চের আলো ফেলার মতো নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু রাতভর হাতির গতিবিধি অনিশ্চিত থাকায় আতঙ্ক কাটেনি। বেশ কয়েকটি পরিবারের কাঁচা বাড়ি আংশিক ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরাও, নষ্ট হয়েছে ধান ও সবজির জমি।
খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছন। বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, হাতি দু’টির গতিপথের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বনাঞ্চলের দিকে হাতি ফেরাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে হাতির হানা নতুন নয় বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। বনাঞ্চল ঘেঁষা এই এলাকায় প্রায়ই বুনো হাতির যাতায়াত দেখা যায়। তবুও রাতভর এমন তাণ্ডবে এখনও আতঙ্ক কাটেনি শালতোড়ার মানুষের। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, স্থায়ী সমাধান হোক, যাতে এমন আতঙ্কের রাত আর না হয়।