রাজ্য প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত কোনও আধিকারিকের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 3 April 2026 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনের মুখে ফের এক সরকারি আধিকারিকের ওপর খাঁড়া নামাল নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে ‘খোলাখুলি প্রচার’ করার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (এআরও) তথা জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে সাসপেন্ড করল কমিশন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি সরকারি পদে থেকেও নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছিলেন। নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কনডাক্ট) লঙ্ঘনের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরেই কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
রাজ্য প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত কোনও আধিকারিকের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মালদহ থেকে ভবানীপুর— একের পর এক অশান্তি এবং প্রশাসনিক গাফিলতির ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। খণ্ডঘোষের এই ঘটনা সেই কড়া বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
ভোটের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আপাতত ওই কেন্দ্রে নতুন কাউকে এআরও হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে। তবে নির্বাচনের ঠিক মুখে জয়েন্ট বিডিও পদমর্যাদার এক আধিকারিককে সাসপেন্ড করায় জেলা প্রশাসনের অন্দরেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, সিইও এবং সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, মালদহের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হবে।
বস্তুত, বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যাঁরা জামিনে মুক্ত—এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের এই বিষয়ে জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে, অথবা যাঁরা বর্তমানে জামিনে বা প্যারোলে রয়েছেন, তাঁদের আর কোনও বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।