ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই ধরনের টানাপড়েন নতুন নয়। তবে যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভারের তালিকায় থাকা নজিরবিহীন।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন করে প্রশাসনিক চাপানউতর। পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly Election) কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) থেকে একাধিক আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভার (Central Observer) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে আগেই এ ব্যাপারে আবেদন পাঠানো হলেও, এখনও পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতর থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
এদিকে সময় দ্রুত ফুরোচ্ছে। কমিশনের নির্দেশে ফেব্রুয়ারির ৫ ও ৬ তারিখ দিল্লিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিংয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্যের আবেদনের জবাব না এলে, তালিকাভুক্ত সব আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককেই দিল্লি যেতে হবে। জানা গিয়েছে, ৫ ও ৬ তারিখের ব্রিফিংয়ে থাকতে হবে ১০ জন আইপিএস অফিসারকে। পাশাপাশি ৬ তারিখের বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ রয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ ১৫ জন আইএএস অফিসারের।
ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের এক নির্দেশে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। ওই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিক। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে নবান্ন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।
রাজ্যের যুক্তি, ভোটের মুখে শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের বাইরে পাঠানো হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই বিকল্প নাম প্রস্তাব করে মোট ১৭ জন আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই ধরনের টানাপড়েন নতুন নয়। তবে যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভারের তালিকায় থাকা নজিরবিহীন। তাই নবান্নের আবেদনকে স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে একাধিকবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়া না মেলায় কমিশন নিজেই তালিকা চূড়ান্ত করতে বাধ্য হয়। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের আগে এই টানাপড়েনের কোনও সমাধানসূত্র বেরোয় কি না।