নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে সব গাড়িতে টহল দেবে, প্রতিটি যানবাহনে জিপিএস ট্যাগ বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বাহিনীর গতিবিধি রিয়েল-টাইমে নজরে রাখা যাবে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Elections 2026) ঘিরে প্রস্তুতি এখন পূর্ণগতিতে। সোমবার সিইও অফিসে (West Bengal CEO Office) আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভোটপর্ব নির্বিঘ্ন রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, কমিশনের পদস্থ কর্তারা এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
আসন্ন নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা রাখতে হবে। কোনও বুথ অন্ধকারে ডুবে থাকবে না - এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক কেন্দ্রে স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি নজরদারি সম্ভব হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সব বুথে ওয়েব কাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। কোথাও প্রযুক্তিগত কারণে ওয়েব কাস্টিং সম্ভব না হলে, সেখানে বিকল্প হিসেবে ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থা রাখতে হবে - এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দিতে সহায়ক হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) যে সব গাড়িতে টহল দেবে, প্রতিটি যানবাহনে জিপিএস ট্যাগ (GPS Tags) বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বাহিনীর গতিবিধি রিয়েল-টাইমে নজরে রাখা যাবে। একই সঙ্গে জেলা শাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘সেনসিটিভ’ বা স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ। অতীত অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিচার করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলি আগে থেকেই চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা যায়।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তি, নজরদারি ও নিরাপত্তা - তিন দিকেই কড়া বার্তা স্পষ্ট।
এদিকে ইতিমধ্যে জানা গেছে, রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। দু'দফা মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি মোতায়েন হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (South 24 Parganas)। জানা গেছিল, ১ মার্চের মধ্যে প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি এবং ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি রাজ্যে ঢুকবে। বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি। ইভিএম ও স্ট্রংরুম পাহারা, ভোটের দিন (Election Security) নিরাপত্তা, এলাকা দখলমুক্ত রাখা এবং আস্থা ফেরানো, এই সব দায়িত্বেই তাদের ব্যবহার করা হবে।
সেইমতোই গতকাল (১ মার্চ) নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে গিয়েছে প্রথম দফায় রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার জানা গেল দ্বিতীয় দফার ২৪০ কোম্পানির কোথায় কত মোতায়েন করা হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) গড় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই জেলায় আসছে ৩৩ কোম্পানি। এরমধ্যে বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৩, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১১ ও সুন্দরবন পুলিশ জেলায় বাহিনী মোতায়েন থাকছে ৯ কোম্পানি।
এরপরেই কলকাতাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মোতায়েন হচ্ছে ৩০ কোম্পানি বাহিনী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
এছাড়াও, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২০, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯, মালদহে ১৮, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১৫, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১০ কোম্পানি মোতায়েন করা হচ্ছে।