বিধানসভা ভোটের আগে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে সক্রিয় নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ড হারবার ও দক্ষিণ কলকাতায় সুপার চেকিংয়ের দায়িত্বে সি মুরুগান।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 January 2026 23:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন খেলা ভাঙার খেলাই। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Election Commission) আগে বিজেপির রাজনৈতিক রণকৌশলে ‘অনুপ্রবেশ’ ক্রমশ মুখ্য ইস্যু হয়ে উঠছে। আজ নয়— বহু দিন ধরেই বিজেপির (BJP) দাবি, তথাকথিত রোহিঙ্গা–বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হোক বা ভূতুড়ে ভোটার, একবার ঠিকমতো চিহ্নিত করা গেলেই ‘খেলা শেষ’। সেই দাবির আবহেই এ বার অনেক বেশি সক্রিয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানি পর্বে জমা পড়া নথির উপর শুরু হয়েছে ‘সুপার চেকিং’। সেই খবর প্রথম প্রকাশ্যে আনে ‘দ্য ওয়াল’। আর এই সুপার চেকিংয়ের কেন্দ্রে উঠে এল এক নাম—সি মুরুগান।
রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই সি মুরুগানকেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্রের আওতাভুক্ত দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের সুপার চেকিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, রাজ্যের দুই সর্বাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক কেন্দ্র এখন এই পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে।
কে এই সি মুরুগান?
গত ২৮ নভেম্বর তাঁকে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। দায়িত্ব দেওয়া হয় দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার। সেই সূত্রেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। স্থানীয় বিক্ষোভে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, তাঁর গাড়ি ঘিরে ধস্তাধস্তি হয় এবং হামলায় গাড়ির দরজার লক পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সি মুরুগানের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয়— এ কথা কারও অজানা নয়। উপরন্তু, একাধিক বার বাধা ও হামলার মুখে পড়েও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, চাপ বা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হবেন না।
এই প্রেক্ষাপটে যখন সেই সি মুরুগানের কাঁধেই ডায়মন্ড হারবার ও দক্ষিণ কলকাতার মতো রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলির সুপার চেকিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হল, তখন স্বাভাবিক ভাবেই নানা মহলে শুরু হয়েছে দুইয়ে দুইয়ে চার করা। বিজেপির অনুপ্রবেশ-বিরোধী আক্রমণ, নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থান এবং রাজ্যের শাসকদলের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজনীতির অঙ্ক যে নতুন করে কষা হচ্ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।