
শেষ আপডেট: 27 March 2024 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: রাইটার্স অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হওয়ার পর ১৩ দিন খাননি তিনি। এখনও যতবার আঘাত লাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আহত হন তিনি। এই একনিষ্ঠ কর্মীকে ছাড়া ভোটের কথা ভাবতেই পারেন না পাণ্ডুয়ার তৃণমূল কর্মীরা। এখনও ভোট এলেই দেওয়াল লিখতে ডাক পড়ে পাণ্ডুয়ার ৮০ বছরের বৃদ্ধ বোসদার।
বোসদা অর্থাৎ দেবাশিস বসু। ছোটবেলায় দেওয়ালে বাঘ-সিংহের ছবি আঁকতেন, তখন থেকেই আঁকার প্রতি ছিল তাঁর ঝোঁক। পরে সেটাকেই পেশা করেন। ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর হাওড়ায় আইটিআই ভর্তি হন। সেখানে পেইন্টার ডেকোরেটরের ট্রেনিং নেন। প্রথম প্রথম রাস্তার পাশে থাকা মাইলফলকে লিখতেন। পরে হোর্ডিং-দেওয়াল লেখা শুরু করেন। পেটের দায়ে চাকরি করেন এখনও। আর নেশা জুড়ে আছে তৃণমূল।
দেবাশিসবাবুর পরিবার ছিল কংগ্রেস ঘরানার। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে তাঁর কাকা অবনীকুমার বোস উলুবেড়িয়া দক্ষিণ থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন। তখন তিনি কাকার হয়ে দেওয়াল লিখতেন। এখন দেবাশিসবাবু তৃণমূল ছাড়া অন্য কারও দেওয়াল লেখেন না। পান্ডুয়ার দিঘির উত্তরপাড়ের বাসিন্দা তিনি। ওই এলাকার দুটি বুথে বিনা পারিশ্রমিকে দেওয়াল লেখেন দেবাশিসবাবু। তবে তৃণমূলেরই অন্য কেউ ডাকলে পারিশ্রমিক নেন।
দেবাশিসবাবু বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলাম। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই রাইটার্স ফিল্ডিং অভিযানে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়। আঘাত পেয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দুঃখে ১৩ দিন খাইনি। পরে মায়ের অনুরোধ ফেলতে না পেরে আবার খাওয়া শুরু করি।"
হুগলি লোকসভায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সমর্থনেই এখন চলছে দেওয়াল লিখন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় হাতে আর বেশি সময় নেই। এলাকার দেওয়াল লেখার দায়িত্ব এখনও তাঁর কাঁধেই। তাই সকাল হলেই রং তুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দেওয়াল লিখতে। এই বয়সেও নিপুণ হাতে দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলেন প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক। তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, "বোসদা আমাদের পুরনো কর্মী। ভোটের সময় তিনিই আমাদের ভরসা। এই প্রথম নয়। এটাই চলে আসছে। এখন ৮০ বছর বয়স হয়ে গেছে ওঁর। তবুও তুলি কিন্তু থেমে নেই।"