
শেষ আপডেট: 13 October 2023 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। তাঁকে আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
ইডির ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে এদিন মামলার শুনানি হয়নি। সোমবার বেলা ১২টায় মামলার শুনানির সময় স্থির করা হয়েছে। ইডির আইনজীবীকে বিচারপতি বলেছেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার পরিবর্তে দুপুর ১২টার পর সিজিও কমপ্লেক্সে সুমিদের হাজিরার সময় দেওয়া হোক। তার আগেই মামলার শুনানি হয়ে যাবে।
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত সপ্তাহে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ করতে হবে। অর্থাৎ এ বছরের মধ্যেই চার্জশিট পেশ করতে হবে ইডি ও সিবিআইকে। তার পর থেকে দুই কেন্দ্রীয় এজেন্সি প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের কোথাও না কোথাও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। অভিষেক ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যে তলব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এবার বাদ গেলেন না সুমিতও।
সুমিতকে আগামী সপ্তাহে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ মামলায় অভিষেক তাঁর স্ত্রী ও বাবা মায়ের সম্পত্তির হিসাব পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কারণ, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও সময়ে অভিষেকের বাণিজ্যিক সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অধিকর্তা ছিলেন বা রয়েছেন। এর পর সুমিতকে যে ডাকা হতে পারে সেই সংশয় কালীঘাটে ছিলই। হলও তাই।
তবে অভিষেক বারবার দাবি করেছেন, নিয়োগ দুর্নীতির ১০ পয়সাও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে ঢোকা প্রমাণ করা যাবে না। কারণ এই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। অভিষেকের এও অভিযোগ, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে পুরনো লেনদেন কখনও কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জুড়তে চাইছে ইডি, কখনও নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে।
সুমিত অভিষেকের অত্যন্ত আস্থাভাজন। বলতে গেলে একপ্রকার আড়ালেই থাকেন তিনি। তাঁকে কোনও জনসভা বা কর্মসূচিতে দেখা যায় না। অভিষেকের অফিসেই বসেন এই তরুণ। তবে রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ করে শাসক দলের অন্দরে সুমিত খুবই পরিচিত নাম। কারণ, সরাসরি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলতে না পারলে নেতা-মন্ত্রীরা সুমিতকেই বার্তা দিয়ে রাখেন। এহেন সুমিতকে ইডি তলব করায় হইচই পড়ে গেছে তৃণমূলেও। তবে এখন দেখার সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট কী রায় দেয়।