অভিযানে ইডির মোট চার থেকে পাঁচটি টিম কাজ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, অবৈধ বালি খনির কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

ইডির তল্লাশি
শেষ আপডেট: 8 September 2025 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে বালি পাচার মামলায় (Illegal Sand Mining Case) সরাসরি নামল ইডি (ED)। সোমবার সকালেই ঝাড়গ্রাম ও কলকাতার বেহালায় (Behala) একযোগে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এই প্রথমবার বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সরাসরি পদক্ষেপ নিল ইডি (ED)। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ ২২টি জায়গায় চলছে তল্লাশি।
এদিন ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বিশাল তিনতলা বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারী দল। সুবর্ণরেখা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই নদী থেকেই বেআইনি ভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। জহিরুল আলি নিজেও বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ির পাশাপাশি গাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির হাতে ছিল সার্চ ওয়ারেন্ট। নানা নথি ও কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জহিরুল আলি বালির ব্যবসা করেন বটে, তবে তাঁকে বেআইনি কারবারে জড়িত বলে মনে করেন না। জানা গিয়েছে, তিনি একসময় ভিলেজ পুলিশ হিসেবে কাজ করতেন। পরে সেই পদ ছেড়ে বালি ব্যবসায় নামেন।
একইসঙ্গে বেহালার জেমস লং সরণীর একটি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে জিডি মাইনিং নামে একটি সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। সংস্থাটি বালির সঙ্গে জড়িত এবং এর আরও একটি শাখা বিধাননগর সেক্টর ফাইভে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইডি সূত্রে খবর, বালি পাচার ও বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ নিয়েই এই অভিযান। কীভাবে এবং কোন কোন জায়গায় অনিয়ম হয়েছে, কীভাবে সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দামে বালি বিক্রি করা হয়েছে— সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে ইডির মোট চার থেকে পাঁচটি টিম কাজ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, অবৈধ বালি খনির কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি সম্প্রতি মামলা দায়ের করে। আর তারপরই আজ ভোর থেকে একযোগে অভিযান শুরু হয়।