
শেষ আপডেট: 26 February 2024 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত সূত্রে সোমবার বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়কে জেরা করলেন ইডির গোয়েন্দারা।
মুকুল রায় এখন তাঁর কাঁচরাপাড়ার বাড়িতেই থাকেন। তিনি ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। অর্থাৎ তাঁর স্মরণশক্তি অনেক দুর্বল হয়েছে। এই অবস্খায় মুকুল রায়কে ইডি নোটিস পাঠাতেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।
রাতে মুকুল রায়ের পুত্র তথা বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বলেন, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ইডির টিম বাড়িতে এসেছিল। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। যতদূর জানি যে তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়েছে।
তৃণমূলে থাকাকালীন মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়ে বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক ছিলেন সিদ্ধার্থনাথ সিং। ধর্মতলায় বিজেপির সভা থেকে সিদ্ধার্থ স্লোগান তুলেছিলেন ‘ভাগ মুকুল ভাগ’। সিদ্ধার্থের সেই আক্রমণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
কিন্তু পরবর্তী কালে সেই মুকুল রায়ই বিজেপিতে যোগ দেন। গত লোকসভা ভোটের সময়ে বিজেপির অন্যতম ভোট কুশলী ছিলেন মুকুল রায়। শুধু তাই নয়, লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির ১৮টি আসন জেতার নেপথ্যে মুকুল রায়ের যে বড় ভূমিকা ছিল তা জনসভায় দাঁড়িয়ে খোলাখুলিই বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ।
কিন্তু একুশের বিধানসভা ভোটের সময়ে এহেন মুকুল রায় বিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর একবার বৈঠক হয়েছিল। প্রশান্ত তখন বাংলায় শাসক দলের কৌশল সাজানোর দায়িত্বে। তার পর থেকেই মুকুলের ব্যাপারে দিলীপ ঘোষদের অনাস্থা তৈরি হয়। সেই ভোটে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে মুকুল রায় জিতে যান ঠিকই, কিন্তু ভোটের পরই তৃণমূলে যোগ দেন।
গত প্রায় দু বছর ধরে মুকুল বাবুর শরীর ভাল যাচ্ছে না। তিনি আর ইদানীং বাড়ি থেকে বিশেষ বেরোন না। বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে সোমবার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের টিম।
শুভ্রাংশু বলেন, কেন কী কারণে ওঁরা এসেছিলেন তা বলতে পারব না। তবে ওঁদের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।