
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 January 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডে ইতিমধ্যে একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। পুলিশের জালে উঠে এসেছে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন এসআই থেকে শুরু করে রাজ্যে পুলিশের হোমগার্ড। অর্থাৎ পুলিশের নজরে রয়েছে পুলিশই। এবার এই তদন্তে তৎপরতা দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। তাদের সন্দেহ, ভুয়ো পাসপোর্ট কাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
এই জালিয়াতি চক্রের কিংপিন মনোজ গুপ্তর সঙ্গে পুলিশের প্রাক্তন কর্মীর যোগসূত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। তবে ইডি মনে করছে, শুধুমাত্র তিনি নন, পুলিশের অনেক নীচুতলার একাধিক কর্মী এই কাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। ভবানীপুর থানায় এই সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল। তাই সেই থানার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইডির আধিকারিকরা। কিছু নথিও যাচাই করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রের কিংপিনের সঙ্গে পুলিশের ওই প্রাক্তন সাব ইন্সপেক্টর আবদুল হাই মিলিত হয়ে কমপক্ষে ২৫০টি জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিল। তার মধ্যে অন্তত ৫৩টির নথি ভেরিফিকেশন করেছিলেন খোদ আবদুল হাই। অনুমান, এই প্রাক্তন পুলিশ কর্মী ছাড়াও পুলিশের আরও অনেকে এই চক্রে জড়িত। সকলের মধ্যেই অর্থ লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের পরিমাণ কত, সেই টাকা কতজন পেয়েছেন, তা জানতেই তৎপর ইডি।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, পুলিশের পাসপোর্ট সেকশনেই কাজ করতেন আবদুল হাই। চাকরির মেয়াদ শেষের এক বছর আগে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছিলেন আবদুল। তারপর থেকেই পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময়ে যে সমস্ত নথি যাচাই করতে হয় সেই নথি যাচাইয়ের সময়ে বেআইনিভাবে অনেককেই পাসপোর্ট পাইয়ে দিতেন তিনি। জাল পাসপোর্ট পিছু ২৫ হাজার করে নিতেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মনোজ গুপ্তর বাড়ি মাঝে মধ্যেই যেতেন আবদুল হাই। সেখানেই জাল নথি দিয়ে বানানো পাসপোর্টের ভেরিফিকেশন হত এবং আর্থিক লেনদেন হত।
সূত্রের খবর, একই আধার নম্বর দিয়ে একাধিক পাসপোর্ট তৈরি করা হত। এজন্য ভুয়ো নথিও তৈরি করা হত। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে জড়িত একাধিক মিডলম্যানের খোঁজও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।