
শেষ আপডেট: 5 October 2023 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধে সাড়ে সাতটা। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পরেও অব্যাহত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযান।
শুধু খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ নয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্ত সূত্রে উত্তর চব্বিশ পরগনার অন্তত হাফ ডজন পুর চেয়ারম্যানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। তল্লাশি চালানো হচ্ছে আইএএস জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের সল্টলেকের বাড়িতেও। সূত্রের খবর, প্রত্যেকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়েও স্টেটমেন্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, যে সময় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ওই সময় অর্থাৎ ২০১৪-১৭ সালে পুরসভার ডাইরেক্টর পদে ছিলেন আইএএস জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। তাই নিয়োগ দুর্নীতিতেও তাঁর যোগ থাকার সম্ভবনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ।
অভিযুক্তদের কারও কারও রয়েছে ব্যাঙ্ক লকার। সূত্রের খবর, সেখানেও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এমনকী বাড়ির সম্পত্তির হিসেবও খতিয়ে দেখছেন তারা। মিলিয়ে দেখা হচ্ছে আয় ব্যায়ের হিসেব। শুধু খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বা অন্যান্য চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান নয়, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তির পরিমাণ, আয় ব্যায়ের হিসেব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, সন্ধে সাতটা নাগাদ বরানগর পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা মৌলিকের বাড়ি থেকে বের হন তদন্তকারীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বাকিদের বাড়িতে অর্থাৎ কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা, টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান পাচু গোপাল রায়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের বাড়িতে এখনও চলছে তল্লাশি অভিযান।
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে পুলিশ হুগলির তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল। শান্তনুর সূত্রে তারপর গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রমোটার অয়ন শীলকে। এই অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকেই পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পায় ইডি। এক দুর্নীতি খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে অন্য দুর্নীতির কিসসা। তারপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগেরও তদন্তে নেমেছে সিবিআই ও ইডি।
২০১৪ সাল থেকে পুরসভায় নিয়োগ নিয়ে যেসব দুর্নীতি হয়েছে মূলত সে ব্যাপারে তদন্ত করছে এই দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর চব্বিশ পরগনার বেশ কিছু পুরসভার কর্মী ও আধিকারিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এই প্রথম কোনও পুর দুর্নীতি কাণ্ডে কোনও মন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি করছে ইডি।