
ধৃত অলোক নাথ।
শেষ আপডেট: 15 April 2025 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনই জাল পাসপোর্ট (Fake Passport) কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে এই কাণ্ডের অন্যতম মাথাকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, বিরাটি এবং নদিয়া-সহ রাজ্যের ৮টি জেলার একাধিক জায়গায় হানা দেয় তদন্তকারীরা।
ইডি সূত্রের খবর, দিনভর তল্লাশি অভিযানের পর নদিয়ার গেদে সীমান্ত এলাকা থেকে পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম অলোক নাথ। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি ল্যাপটপ এবং দুটি মোবাইল।
ধৃতকে আগামীকাল আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। ইডির দাবি, ধৃতর মাধ্যমেই জাল পাসপোর্ট পৌঁছে যেত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ধৃতকে জেরা করে চক্রের বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
গত বছরের শেষদিকে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনা প্রথম সামনে আসে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট দফতরের তরফে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে পাসপোর্ট তৈরির একটি বড় চক্রের কথা। তারপর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। মামলায় পুলিশ মোট দশজনকে গ্রেফতার করে, যাদের মধ্যে একজন প্রাক্তন পুলিশকর্মী, সঙ্গে ডাক বিভাগের দুই কর্মী রয়েছেন। এরপরই জানা যায়, রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে এই চক্রের জাল।
ধৃতদের জেরা করেই এদিন কলকাতা, বিরাটি, নদিয়া-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নামেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম জাল পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দায়ের হয় ভবানীপুর থানায়। মামলায় প্রাথমিকভাবে ৩৭ জনের নাম উঠে আসে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জাল নথি জমা দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করতেন। এরপর বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয় রিপন বিশ্বাস, দীপক মণ্ডল, সমরেশ বিশ্বাস এবং দীপঙ্কর দাস-সহ কয়েকজনকে। অভিযানে উদ্ধার হয় একাধিক কম্পিউটার, ভুয়ো ব্যাঙ্কের নথি, ৩৬টি পাসপোর্টের কপি এবং ভিসা।