সব মিলিয়ে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই রাজ্যে নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রার্থী ঘোষণার দৌড়, অন্যদিকে প্রচারের ঝাঁঝ - সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন কার্যত উত্তপ্ত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছিল গত ১৫ মার্চ। সেই ঘোষণার পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এর ফলে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে।
এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায় (West Bengal Assembly Election 2026)। অন্যদিকে, বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক দফাতেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে। সব মিলিয়ে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্যই এই দুই দফায় ভোট সম্পন্ন হবে। ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস এক দফাতেই ২৯১টি আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিজেপি এখনও পর্যন্ত তিন দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রথম দফায় ১৪৪টি এবং দ্বিতীয় দফায় ১১২টি আসনে এবং তৃতীয় দফায় ১৯টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বাম শিবিরও পিছিয়ে নেই। তারা ইতিমধ্যেই তিন দফায় মোট ২৩৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রথম দফায় ১৯২ জন, দ্বিতীয় দফায় ৩২ জন এবং তৃতীয় দফায় ১৫ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে তারা। অন্যদিকে কংগ্রেস রবিবার ২৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।
সব মিলিয়ে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই রাজ্যে নির্বাচনী লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রার্থী ঘোষণার দৌড়, অন্যদিকে প্রচারের ঝাঁঝ - সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন কার্যত উত্তপ্ত। এখন নজর দুই দফার ভোটগ্রহণ এবং তার ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক দিশা।
এদিকে আবার ভোট ঘোষণার পর রাজ্যের একাধিক আধিকারিককে বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোট ২৬৭ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিডিও, থানার ওসি ও আইসি-রা। রবিবার সন্ধ্যায় একযোগে রাজ্যের ১৭৩টি থানার ওসি ও আইসি বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিক। একই দিনে দুপুরের দিকে রাজ্যের ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও-র বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একদিনে এত সংখ্যক আধিকারিকের স্থানান্তর নজিরবিহীন বলেই মনে করছে শাসকদল।
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) নতুন করে মামলা করার জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। আদালত এই মামলার অনুমতিও দিয়েছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ খারিজ করেছে বিজেপি। গত শনিবার কলকাতা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তাঁর দাবি, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি কটাক্ষের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলায় বিষয়টি বড় করে দেখা হচ্ছে কারণ এখানে অধিকাংশ আধিকারিকই তৃণমূলের কথা শুনে কাজ করেন।