ভোট ঘোষণার আগে স্পেশ্যাল অবজার্ভার হিসাবে ইতিমধ্যেই এক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস-কে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার সুব্রত গুপ্তকে ইলেকশন অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দিল তাঁরা।

সুব্রত গুপ্ত
শেষ আপডেট: 10 March 2026 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Elections 2026) ঘোষণার আগে স্পেশ্যাল অবজার্ভার (Special Observer) হিসাবে ইতিমধ্যেই এক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস-কে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার সুব্রত গুপ্তকে ইলেকশন অবজার্ভার (Election Observer Subrata Gupta) হিসেবে দায়িত্ব দিল তাঁরা। অর্থাৎ ভোট ঘোষণার আগেই দুই অবজার্ভার নিয়োগ হল পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)।
পশ্চিমবঙ্গ এসআইআর পর্ব শুরুর মুখেই নির্বাচন কমিশন সুব্রত গুপ্তকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল। এই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসারকে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার (Special Roll Observer) পদে নিয়োগ করে তাঁরা। এবার তাঁকেই রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিল কমিশন। সূত্রের খবর, তাঁকে যে ইলেকশন অবজার্ভার করা হবে তা এদিনের বৈঠকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
রাজ্য সফরে এসেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মঙ্গলবারই সেই সফরের শেষ দিন। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন জ্ঞানেশ কুমার, জ্ঞানেশ ভারতীরা। দেখা গেল, কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফর শেষ হতে না হতেই সুব্রত গুপ্তকে নির্বাচনী আবহে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাংলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংগঠিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোটই হবে কমিশনের আসল চ্যালেঞ্জ। আর সেই কাজে গাফিলতি দেখলে জেলাশাসক (DM) ও পুলিশকর্তাদের (Police) বিরুদ্ধে কেবল ‘বদলি’ নয়, বিভাগীয় তদন্ত বা ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস হবে। তারপরই সুব্রত গুপ্তর খবর সামনে এল।
কে এই সুব্রত গুপ্ত?
সুব্রত গুপ্ত ছিলেন ১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। আমলা মহলে আলোচনা - এক সময়ে এই সুব্রত গুপ্তই তাঁর সিনিয়রিটির জন্য মুখ্য সচিব পদের অন্যতম দাবিদার (পড়ুন যোগ্য) ছিলেন।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সুব্রত গুপ্তর দায়িত্ব কী ছিল
এক, গোটা রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া তথা এসআইআরের (SIR) উপর নজর রাখা। সংশোধনের প্রতিটি ধাপ যেন যথাযথভাবে হয়, তা নিশ্চিত করা। কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ যেন না পড়ে কিংবা কোনও অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় যেন ঢুকে না পড়ে, সেটা সুনিশ্চিত করা।
দুই, প্রয়োজনমতো কমিশনকে (পড়ুন দিল্লিকে) রিপোর্ট পাঠানো। তিনি চাইলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত গ্রাউন্ড লেভেল ইনপুট ও অবজার্ভেশন পাঠাতে পারবেন।
তবে সুব্রত গুপ্ত কোনওরকম শংসাপত্র (appreciation letter) কোনও ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) কিংবা ইআরএ-কে (ERO) বা অন্য কোনও আধিকারিককে নিজে থেকে দিতে পারবেন না। কেউ সত্যিই সত্যিই প্রশংসার যোগ্য হলে, তিনি কমিশনের কাছে সুপারিশ পাঠাতে পারবেন।