সোমবার কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের আধিকারিকদের ওই বৈঠকের পরেই শুনানিতে প্রায় ১ কোটি ভোটারকে (Logical discrepancies) ডাকার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 5 January 2026 23:56
ভোটার তালিকার (Voter List) অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি (Logical discrepancies) রয়েছে, সেই সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস অবিলম্বে ডাউনলোড করে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরকে নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সূত্রের খবর, এই কাজে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় শুরুতে নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা আর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নেই। তা নেমে এসেছে কম-বেশি ৯৫ লক্ষে।
সূত্রের খবর, সোমবার সিইও দফতরও কমিশনের নির্দেশ পেয়ে প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বা ডিইও-দের নোট পাঠিয়ে বলেছে, কাল অর্থাৎ মঙ্গলাবার থেকেই প্রতিদিন বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কতগুলি নোটিস সার্ভ করা হয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, দৈনিক নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে গোটা প্রক্রিয়াকে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হচ্ছে। তথ্যগত অসঙ্গতি অর্থাৎ কারও নাম মেলেনি, তো কোনও ভোটারের বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম। আবার কোনও কোনও ভোটারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে তাঁদের ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে পার্থক্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল কিংবা জেন্ডার মিসম্যাচ বা লিঙ্গের অমিল পাওয়া গিয়েছে তাঁদেরই নোটিস পাঠাবে কমিশন।
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে বলে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই আবহেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer) মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে ডেকে পাঠায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের আধিকারিকদের ওই বৈঠকের পরেই শুনানিতে প্রায় ১ কোটি ভোটারকে (Logical discrepancies) ডাকার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পৌঁছনো নিশ্চিত করতে হবে এবং তার বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সে দিকেও কড়া নজর রাখা হবে।
সম্প্রতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একই দিনে কী ভাবে কমিশন একসঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা এবং তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে পারে— সেই বিষয়টি নিয়েই তাঁর আপত্তি।
পাশাপাশি তথ্যগত অসঙ্গতির পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশের দাবি জানান অভিষেক। কিন্তু দেখা গেল, তালিকা নয় উল্টে সেই তালিকায় থাকা প্রায় ১ কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকতে চলেছে কমিশন।