
শেষ আপডেট: 7 January 2024 22:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে একপ্রকার গৃহবন্দি তিনি। ব্রিগেডের যাওয়ার মতো শরীরের জোর নেই ঠিকই, কিন্তু যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদকের বার্তা ছাড়া কি ডিওয়াইএফআই-এর ব্রিগেড সমাবেশ হতে পারে? তাই ইনসাফ সমাবেশের আগে শনিবার রাতেই যুবনেত্রী তথা অঘোষিত 'ক্যাপ্টেন' মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ ডিওয়াইএফআই নেতারা সোজা চলে গিয়েছিলেন পাম অ্যাভিনিউয়ের দু কামরার ফ্ল্যাটে, বুদ্ধ-বার্তা নিতে। শয্যাশায়ী হয়ে পড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুব নেতৃত্ব দেখা করার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য জানান, বুদ্ধবাবু বলেছেন, বড় ব্রিগেড হবে, ভাল ব্রিগেড হবে। রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চে ইনসাফ সমাবেশ শেষও হল তাঁরই বার্তা দিয়ে।
এদিন ব্রিগেডে সিপিএমের ছাত্র যুবদের সমাবেশ শুরু হয়েছিল রবীন্দ্র সঙ্গীত বাংলার মাটি বাংলার জল গেয়ে, যে গানটিকে বাংলার রাজ্য সঙ্গীত বলে ঘোষণা করেছে বর্তমান শাসক দল তৃণমূল। তারপর একে একে বক্তৃতা দেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, হিমঘ্নরাজ ভট্টাচার্য , সৃজন ভট্টাচার্য সহ একাধিক নেতারা। সবার শেষে বক্তৃতা দেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। হিসেব মতো তিনিই ছিলেন সর্বশেষ বক্তা। কিন্তু শেষ হওয়া তখনও বাকি ছিল। মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরে ফের সভামঞ্চে উঠে মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানান, তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দেওয়া বার্তা পাঠ করবেন।
মঞ্চ থেকেই এরপর যুবনেত্রী জানান, শনিবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে লড়াইয়ের উষ্ণতা নিয়েই ফিরেছেন তাঁরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং একসময়ের সম্পাদক বুদ্ধবাবু স্ত্রী এবং মেয়ের মারফত তাঁদের কাছে বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মিনাক্ষী। সেই বার্তা ডিওয়াইএফআইকে উজ্জীবনী শক্তি জুগিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপরেই বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত 'আমরা নূতন যৌবনের দূত'-এর নির্বাচিত তিনটি লাইন পাঠ করেন মীনাক্ষী। তা হল, "যেখানে ডাক পড়ে, জীবন মরণ ঝড়ে, আমরা প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, বুদ্ধ বার্তায় জানানো হয়েছে ব্রিগেড সমাবেশ সাফল্যমণ্ডিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংযুক্ত মোর্চার ব্রিগেড সমাবেশে আসতে পারেননি বুদ্ধদেব। তবে সেবার অডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শেষবার ব্রিগেডে গিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। তবে তখনও তিনি বেশ অসুস্থ, নাকে লাগানো ছিল অক্সিজেনের নল। সভামঞ্চের নীচে গাড়িতে মিনিট পনেরো বসে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকুন বা না থাকুন, তাঁর বার্তাই যে দলকে লোকসভা নির্বাচনের আগে অনেকখানি অক্সিজেন জোগাল, তা স্পষ্ট।