এক সময় দামোদর নদীকে বলা হত ‘বাংলার দুঃখ’। সেই দুঃখ মোচনের জন্য ১৯৫৫ সালে তৈরি হয় ডিভিসি। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, আজও সেই দুঃখ ঘোচেনি।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের অভিযোগ, দক্ষিণবঙ্গে প্রতি বছর যে বন্যা পরিস্থিতি (Flood) তৈরি হচ্ছে, তার মূল কারণ ডিভিসি (DVC)। জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে না-জানানো, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না-হওয়া এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘মনোপলি’ আচরণ— সব মিলিয়ে বিপাকে সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Chief Minister Mamata Banerjee,) নির্দেশে মন্ত্রী মলয় ঘটকের (Malay Ghatak) নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিনিধিদল পৌঁছে যায় ঝাড়খণ্ডের মাইথনে, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-র মুখ্য কার্যালয়ে।
দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে বড় অভিযোগ আনেন রাজ্যের আইন ও বিচারমন্ত্রী মলয় ঘটক। তাঁর কথায়, “ডিভিসি স্বীকার করেছে যে ড্রেজিং হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যেটা বলেছিলেন, সেটাই প্রমাণিত— এটা ‘ম্যান মেড’ ফ্লাড।”
মন্ত্রী জানান, ডিভিসি-র ছাড়া জলে কেউ মারা গেলে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ডিভিসিকেই। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে না-জানালে ফের ডেপুটেশন দেব আমরা। প্রয়োজনে ঘেরাও কর্মসূচিও চলবে।”
এক সময় দামোদর নদীকে বলা হত ‘বাংলার দুঃখ’। সেই দুঃখ মোচনের জন্য ১৯৫৫ সালে তৈরি হয় ডিভিসি। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, আজও সেই দুঃখ ঘোচেনি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বৈঠকের পর মলয় জানান, বিহার-ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলেই দক্ষিণবঙ্গে ভাসে একের পর এক জেলা। কারণ? জলাধারগুলোর নীচে পলি জমে যাওয়ায় জল ধারণক্ষমতা কমে গিয়েছে। দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে ড্রেজিং হয়নি। ডিভিসির কর্তৃপক্ষ নিজেই তা স্বীকার করেছেন।
তৃণমূলের দাবির পাল্টা জবাবে ডিভিসি-র আধিকারিক সুমনপ্রসাদ সিং দাবি করেছেন, ‘‘রাজ্যকে না-জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ তিনি জানান, জল ছাড়ার আগে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের নির্দেশ মেনে সব পক্ষকে জানানো হয়। রয়েছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র— দুই তরফের আধিকারিকরা যুক্ত থাকেন। তাঁর বক্তব্য, “কোনও কোনও দিন জল ছাড়া হয়েছে ৭০-৭৫ হাজার কিউসেক। অথচ ওই চ্যানেলের ধারণ ক্ষমতা ১.৩০ লক্ষ কিউসেক।”
ড্রেজিং হয়নি, এটা ডিভিসি মেনে নিলেও সংস্থার দাবি, “শুধুমাত্র ড্রেজিং না-করার জন্য বন্যা হয় না। ক্যারিং ক্যাপাসিটির অর্ধেক পরিমাণ জলই ছাড়া হয়।” ডিভিসির বক্তব্য, কেন্দ্রের তরফে ড্রেজিংয়ের জন্য নীতি তৈরি হচ্ছে, একটি পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিভিসি আধিকারিক সাফ জানিয়ে দেন, “আমি উপযুক্ত ব্যক্তি নই এই বিষয়ে মন্তব্য করার।”
ডিভিসি বনাম রাজ্য সরকার— এই টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। তবে এ বার তৃণমূল কার্যত আক্রমণের মোডে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারবার ডিভিসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার তাঁর নির্দেশে রাজ্যের মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরাসরি ডিভিসি-র অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন দিল দল। জল ছাড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে— কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জেরেই কি ফিবার দীর্ঘ এলাকায় বানভাসি হাল হয়?