তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রশান্ত বর্মণের নাম যুক্ত করা হতে পারে।

শেষ আপডেট: 5 February 2026 09:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় ৯০ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দিল পুলিশ (Duttabad gold businessman murder chargesheet)। কিন্তু সেই চার্জশিটে (Chargesheet) নাম নেই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের (Prashant Barman, BDO)। তদন্ত নথিতে একাধিকবার তাঁকে ‘পলাতক’ বলা হলেও অভিযুক্তের তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে উদ্ধার হয় স্বপন কামিল্যার (Swapan Kamilya) দেহ। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই বিধাননগর আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার এবং বিবেকানন্দ সরকারের নাম রয়েছে। খুন, অপহরণ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রশান্ত বর্মণের নাম যুক্ত করা হতে পারে।
যদিও আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহ রায়ের দাবি, যাঁকে ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ বলা হচ্ছে, তাঁকে পলাতক উল্লেখ করে চার্জশিট দেওয়া মানেই তদন্ত কার্যত সম্পূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী ওই বিডিওকে সুবিধা দিতেই এই পদক্ষেপ। একই সুর বিজেপি নেতা সজল ঘোষের গলাতেও, পুলিশ মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতে চাইছে বলেই দাবি তাঁর।
স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই মৃতের পরিবার প্রশান্ত বর্মণকে প্রধান অভিযুক্ত বলে অভিযোগ তোলে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরানো হয়। প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও, সেই জামিনের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে যায় পুলিশ। হাইকোর্ট আগাম জামিন খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তা না করায় বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে যান প্রশান্ত বর্মণ। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। পুলিশও তাঁর খোঁজ পায়নি।
এই পরিস্থিতিতেই চার্জশিটে তাঁকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করে নথি জমা দিল পুলিশ।
গা-ঢাকা দেওয়া অবস্থাতেই প্রশান্ত বর্মণ দাবি করেছিলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।