রবিবার রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় দুর্গাপুর পুরনিগমের অস্থায়ী এক কর্মীকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ। ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 13 October 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "মুখ্যমন্ত্রী একজন লিডার অফ দ্য হাউস হয়েও একবারও আসতে পারলেন না, আমি লজ্জিত।" দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Medical College Gangrape) 'নির্যাতিতার' বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, নির্যাতিতাকে এ রাজ্যে রাখতে রাজি নয় পরিবার। নির্যাতিতার চিকিৎসা (Doctors) নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, "চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু চিকিৎসকদের মুখ খুলতে বারণ করা হয়েছে। কারণ মুখ খুললেই চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে।"
রবিবার নির্যাতিতার বাবা-মা ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে এসে পৌঁছেছেন। হাসপাতালে মেয়ের পাশে থেকে সংবাদমাধ্যমে তরুণীর বাবা বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গে নিরাপদ বোধ করছি না। মেয়েকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরতে চাই।”
রবিবার রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় দুর্গাপুর পুরনিগমের অস্থায়ী এক কর্মীকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ। ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও এক অভিযুক্ত অধরা। তাঁর সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চলছে। সোমবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
এদিন শুভেন্দু বলেন, "মূল অভিযুক্ত শেখ নাসিরউদ্দিন তৃণমূলের ক্যাডার। এখনও তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশের উচিত দ্রুত তাঁকে ধরা।"
রবিবার উত্তরবঙ্গে যাওয়ার পথে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) দুর্গাপুর-কাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব আছে। বাইরে থেকে যারা পড়তে আসে, বিশেষ করে মেয়েরা, তাদের রাতে বাইরে বেরোনো ঠিক নয়।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ কাউকেই ছাড়বে না, কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যেহেতু 'নির্যাতিতা' ওড়িশার বাসিন্দা সে কারণে ওখানকার প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। রবিবার একটি প্রতিনিধিদল দুর্গাপুরে এলেও তাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ওড়িশা রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা দুর্গাপুরে আসছেন। তাঁরা পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট ওড়িশা সরকারের হাতে তুলে দেবেন। ইতিমধ্যে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও ঘটনাটিয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।