
শেষ আপডেট: 21 October 2023 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুচকা! শুকনো হোক বা তেঁতুল জলে ডোবানো, এমন লোভনীয় খাবার পছন্দ করেন না, এমন লোকের সংখ্যা খুঁজে বের করা ভার। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এখন গজিয়ে উঠেছে ফুচকার দোকান। আর দুর্গাপুজোয় ফুচকা খাবে না, এমন লোক প্রায় নেই বললেই চলে। সেই লোভনীয় খাবারই এবার থিম হিসেবে বেছে নিয়েছিল শহর কলকাতার অন্যতম বড় পুজো বেহালা নতুন দল! কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, বাঙালির প্রিয় উৎসবে, তাদের প্রিয় খাবার দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েই মন জয় করবেন! কিন্তু সপ্তমী হতে না হতেই অন্য চিন্তা ঘুরছে 'নতুন দল' ক্লাবের কর্তাদের মাথায়!
মহালয়ার পর পরই বেহালার এই ক্লাবের মণ্ডপ উদ্বোধন হয়েছে। শিল্পী অয়ন সাহা এই মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছেন। ফুচকায় সুন্দর করে মণ্ডপ সেজে উঠেছে। মণ্ডপে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত শুধুই ফুচকা। ক্লাবের এক কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, '১ লাখের বেশি ফুচকা দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।'
সপ্তমী যেতে না যেতেই নাকি মণ্ডপ থেকে প্রায় অর্ধেক ফুচকা উধাও! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। সন্দীপনবাবুর কথায়, 'ফুচকা কমবেশি সবাই ভালবাসেন। মণ্ডপে ঢুকে হাতের নাগালে ফুচকা পেয়ে কেউ লোভ সামলাতে পারছেন না। মণ্ডপের থেকেই ফুচকা তুলে নিচ্ছেন!' সেই ফুচকা কেউ কেউ আবার খেয়েও ফেলছেন, কেউ আবার স্মৃতি হিসেবে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন!
মণ্ডপে যে ফুচকা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সবই আসল। কিন্তু গোটা পুজোয় তা মুচমুচে রাখতে ফুচকায় ব্যবহার করা হয়েছে কেমিক্যাল। সেই কেমিক্যাল পেটে গেলেই বিপদ। পেট খারাপও হতে পারে। সতর্কতা হিসেবে ক্লাবের তরফে বারবার মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, 'দয়া করে মণ্ডপের ফুচকায় হাত দেবেন না। ওই ফুচকায় কেমিক্যাল আছে। পেট খারাপ হতে পারে। সাবধান...।'
ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরাও কড়া নজর রাখছেন। কিন্তু ফুচকাপ্রেমী বাঙালিকে আটকে রাখা মুশকিল। নজরদারির আড়ালেই মণ্ডপ থেকে ফুচকা তুলে মুখে পুড়ছেন। বিশেষত বাচ্চারা। সন্দীপনবাবুর কথায়, 'ফুচকা কীভাবে আটকে রাখা যাবে বলুন। কিন্তু এই ফুচকায় কেমিক্যাল থাকায় চিন্তা রয়েছে আমাদের। শরীর খারাপ হতে পারে। আমরা বারণ করছি সকলকেই।'