অতীতে দুর্গাপুজোয় মদের দোকান বন্ধ থাকার নিয়ম আরও কঠোর ছিল। অষ্টমীতে পুরো দিন এবং বিজয়া দশমীতে বিকেল পাঁচটার পর দোকান বন্ধ রাখতে হত।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 2 October 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোয় বরাবর (Durga Puja 2025) কোটি কোটি টাকার লাভ আসে আমোদ-প্রমোদ থেকে! গত বছর অর্থাৎ '২৪ সালে মদের ব্যবসা (Alcohol) থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার! বাঙালি হোক বা অবাঙালি, মদ্যপান ছাড়া উৎসব-রাতের (Durga Puja Bijaya Dashami) আড্ডাটা বড্ড বেমানান লাগে যেন। তারই জম্পেশ প্রভাব দেখা দেয় এই ব্যবসায়। বছর বছর।
পরিসংখ্যান বলছে, ২৩ সালের তুলনায় ২৪-এ এক লাফে ২০ শতাংশ বেড়েছিল মদের ব্যবসা। ৩ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার ব্যবসা হয় রাজ্যে (West Bengal)। দশমী তিথিতে সবচেয়ে বেশি। আবগারি দফতর জানিয়েছিল, কলকাতার চারটি জায়গা, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, আলিপুর এবং বিধাননগর থেকেই বিপুল পরিমাণ আয় হয়েছে। এই চারটি জায়গার মধ্যে সবথেকে বেশি মদ বিক্রি হয়েছে আলিপুরে, প্রায় ৪৫ কোটি টাকার।
কিন্তু এবার ছবিটা অন্যরকম। এখনও অবধি কত মদ বিক্রি হয়েছে রাজ্যে সে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি ঠিকই, মোটের উপর আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়াও খুব একটা কষ্টসাধ্য হবে না সুরাপ্রেমীদের কাছে। তবে দশমী এবং গান্ধী জয়ন্তী হওয়ায় অনেকেই হাহুতাশ করছেন। টালিগঞ্জের এক সুরাপ্রেমী জানালেন, ড্রাই ডে-র আগে কিছু সঞ্চয় করে রাখলে আরও ভাল হত। আবার বুক বাজিয়ে কসবার এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যাঁরা আসলেই সুরাপ্রেমী তাঁরা ঠিকই আগে থেকে সব গুছিয়ে গাছিয়ে রেখেছেন। তবে বেশিরভাগেরই সাফ কথা, পুজোয় আমোদ প্রমোদে খরচাই যদি না করতে পারি তাহলে আর কীসের আনন্দ। অতিরিক্ত দাম দিয়েই শখ মিটিয়ে নেওয়া যাবে।
অতীতে দুর্গাপুজোয় মদের দোকান বন্ধ থাকার নিয়ম আরও কঠোর ছিল। অষ্টমীতে পুরো দিন এবং বিজয়া দশমীতে বিকেল পাঁচটার পর দোকান বন্ধ রাখতে হত। তবে ২০১৬ সালে সেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। রাজ্যে ড্রাই ডে-র সংখ্যা তখনই কমানো হয়। এখন শুধুমাত্র পাঁচটি দিনে মদ বিক্রি বন্ধ থাকে, প্রজাতন্ত্র দিবস, দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, মহরম এবং গান্ধী জয়ন্তী। ফলে এ বছরও অন্যান্য পুজোর দিনে মদের দোকান খোলা থাকলেও দশমীতে পাওয়া যাচ্ছে না সুরা।
আবগারি দফতরের নির্দেশ মেনে এদিন কড়া নজরদারিতে থাকছে পুলিশও। দোকান খোলা ধরা পড়লেই নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা। যদিও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে যা জানা গেল, রাত ১২টার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। পানশালাগুলো খুললেই দশমীর রাতটা ঢুলু ঢুলু চোখেই কাটিয়ে দেবেন।