দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে জারি হওয়া লকডাউন তৃতীয় পর্যায়ে পা দিয়েছে। এই লম্বা সময়ের জন্য ঘরবন্দি থাকার অভ্যাস আমাদের বেশিরভাগেরই নেই। অন্য কয়েকটি দেশের অবস্থা আরও খারাপ, আরও সুদীর্ঘ তাদের লকডাউন। তাই অনেকেই নানা মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যাঁদের ঘরে বসে কাজ করতে হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও অনেকেই নানা অবসাদজনিত সমস্যায় পড়েছেন। গবেষণা বলছে, এর সমাধান হতে পারে ঘরের পোষ্যটিই। তার উপস্থিতিই জীবনে আনন্দের স্বাদ আনতে পারে, কেটে যেতে পারে মানসিক অবসাদ বা কাজের চাপের সমস্যা।

কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনও প্রিয় পোষ্য যে মানুষের কতটা ভাল বন্ধু হতে পারে, এটা সকলেই জানেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ভূমিকা রয়েছে তার পোষ্যের। বিশেষ করে কুকুর আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। তাই পোষ্য কুকুর বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটালে দূর হয়ে যেতে পারে কারও মনের ভিতরে জমে থাকা সমস্ত অবসাদ। এমনকি বাড়ির কুকুরের সাথে ক্ষণিকের চোখাচোখিও মানুষের অনুভূতিকে বদলে দিতে পারে! গবেষণায় প্রমাণ, এর ফলে শরীরে অক্সিটোসিন হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব প্রয়োজন।

তবে শুধু তাই নয়। কর্মজীবনের সমস্যার জন্যও যে অবসাদ, তা কাটিয়ে দিতে পারে আপনার পোষ্যই। ফলে আপনি কর্মজীবনে আরও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, যদি আপনাকে সঙ্গ দেয় আপনার কুকুরটি। এক্ষেত্রে আপনি কাজের চাপ অনেক কম অনুভব করবেন, আরও কাজ করার এনার্জি পাবেন। মন ভাল থাকবে, বিরক্তি দূর হবে। ফলে কাজে ভুলও কম হবে। ফলে কুকুরের মালিক মনের আনন্দের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ততটাই সাফল্যও পেতে পারেন।

সমীক্ষা বলছে, যে সব কর্মস্থলে পোষ্যকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে, সেখানকার কর্মচারীরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে 'স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট' করতে পারেন সহজেই। বাড়ির দৈনন্দিন কাজের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য এই বিষয়টি। তবে এ জন্য মালিককেও পোষ্যের মানসিক অবস্থার খেয়াল রাখতে হবে। তাকেও সুন্দর পরিবেশ, সুন্দর রুটিন দিতে হবে একই ভাবে। তবেই সে ফূর্তিতে থাকবে, আপনাকেও ভাল রাখবে।
/arc-anglerfish-tgam-prod-tgam.s3.amazonaws.com/public/CS3PFV2EDBFJNKDUQAHL7WYPZU.JPG)
তবে এই লকডাউনের সময়ে মন ভাল করতে পোষ্য কুকুর জোগাড় করার কথা ভাবতে হবে না। এর সমাধানও বলেছেন গবেষকরা। ইন্টারনেটের দ্বারস্থ হন। দুধের সাধ ঘোলেও খানিক মেটানো যাবে বলেই বলছেন তাঁরা। ইন্টারনেটে বিভিন্ন পোষ্যদের নিয়ে তৈরি ভিডিও দেখলেও একই রকম কাজ দেবে। প্রায় ৭০০০ মানুষের ওপর করা একটি সমীক্ষা বলছে, যাঁরা নিয়মিত পশুদের নিয়ে তৈরি ভিডিও দেখেন, তাঁরা অনেকের থেকেই অনেক বেশি সুখী। তাঁরা সহজে অবসন্ন হন না, বিষাদে ডুবে যান না।

তাই গবেষকরা বলছেন, যদি নিজের কাজ নিয়ে খুবই সমস্যায় থাকেন, অবসন্ন বোধ করেন, তাহলে চটপট কিছু কুকুর বা বিড়ালকে নিয়ে বানানো ভিডিও দেখে ফেলুন। রীতিমতো কাজে দেবে। কারণ যাঁরা কাজের ফাঁকে এই ধরনের ভিডিও দেখতে অভ্যস্ত, তাঁরা অনেক সহজেই সমস্যাগুলোকে সামলাতে পারেন। সঙ্গে মনও ফুরফুরে থাকে।

তাই গবেষকদের নিদান, এই লকডাউনে মানসিক সমস্যা বা অবসাদ দূর করতে নিজের পোষ্যকে সময় দিন। তার সঙ্গে কথা বলুন, খেলুন। আর কাজের সময়েও তাকে সঙ্গী করুন। গবেষকরা এ-ও বলছেন, অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে যখন ভিডিওকলে বসবেন, তখনও পোষ্যটিকে সঙ্গে রাখুন। আপনার পোষ্য আপনার সহকর্মীদেরও মনও ফুরফুরে করে তুলতে পারে।